শুক্রবার, ১৭-আগস্ট ২০১৮, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগ আবারো স্থগিত করলো হাইকোর্ট

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগ আবারো স্থগিত করলো হাইকোর্ট

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০২ আগস্ট, ২০১৭ ০৮:২২ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডটকম, ঢাকা: ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটে চাকরি করার অভিযোগে দায়ের করা এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আবারো তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান খানের দায়ের করা এই রিট পিটিশনের শুনানি শেষে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী পদে দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা বর্তমানে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিতে নিয়োজিত আছেন। এর আগে চাকরির বয়স শেষে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে অতিরিক্ত এক বছর বেশি সময় কাজ করেছেন। তার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট ভুয়া এবং ওই এক বছরের কাজকে অবৈধ বলে দাবি করেছেন রিট মামলা দায়েরকারী মো. শাহজাহান খান।
উল্লেখ্য, একই কারণে হাইকোর্ট ইতিপূর্বেও দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালার নিয়োগ স্থগিত করেছিলেন। তখন রিট মামলা দায়ের করেছিলেন যশোরের জনৈক সাহেব আলী। প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা চেম্বার জজ আদালতে আপিল করে হাইকোর্টের সেই আদেশ তখন স্থগিতের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হন। তবে মামলাটির নিয়মিত শুনানি চলবে বলে জানানো হয়।
মো শাহজাহান খান কর্তৃক বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি জহিরুল হকের বেঞ্চে দায়ের করা রিট মামলা নং ১০৯২৩/২০১৭। রিটকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট এসএম আবুল হোসেন।
মো. শাহজাহান খান তার রিট পিটিশনে উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেননি। ১৯৫৬ সালের ৮ আগস্ট তার জন্ম। ১৯৮১ সালের ১২ ডিসেম্বর চাকরিতে প্রবেশকালে তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেননি।
রিট পিটিশন কারী বলেন, আমি ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে জেনেছি মুক্তি বার্তায় (লাল বই/ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সরকারী গেজেটও) তার নাম নেই। ১৯৯৬- ২০০০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিস্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেই।
তিনি আরোও উল্লেখ্য করেন, ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট তার চাকরির মেয়াদ ৫৯ বছর পূর্ণ হয়। কিন্তু ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারী একটি ভূয়া সাময়িক সনদপত্র দাখিল করে ২০১৬ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে অতিরিক্ত এক বছর চাকরি করেন। পরে আরো দু’বছর চুক্তিভিক্তিক নিয়োগ পান।
এর আগে ২০১৬ সালের ২১ জুন প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগ কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবেনা মর্মে কারণ দর্শাণোর নোটিশ জারি করে। রিটে প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ার মোহাম্মদ হানজালা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ৬ জনকে বিবাদী করা হয়।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আজ বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ।
শীর্ষনিউজ/প্রতিবেদক