শুক্রবার, ১৭-আগস্ট ২০১৮, ০৩:৫১ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা: মামলার চার্জশিট আজ

চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর হত্যা: মামলার চার্জশিট আজ

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, টাঙ্গাইল: চলন্ত বাসে ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজের শিক্ষার্থী রূপা খাতুনকে ধর্ষণ এবং হত্যার চার্জশিট শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে আজ বুধবার।

আলোচিত ওই ঘটনার দেড় মাসের মাথায় গত ১৫ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা মধুপুর থানার পরিদর্শক অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কাইয়ুম খান সিদ্দিকী টাঙ্গাইল বিচারিক আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

পরের দিন বিচারিক হাকিম আদালত থেকে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে,  আজ ট্রাইব্যুনালে চার্জশিটের ওপর শুনানির পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা গৃহীত হবে।

এদিকে রূপার ছোট বোনকে চাকরি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এসেনসিয়াল ড্রাগ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্টরা রূপার ছোট বোন পপির হাতে ওই দফতরের অফিস সহকারীর পদে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের পর রূপাকে হত্যায় জড়িত ছিলেন বগুড়া-ময়মনসিংহ রোডের নিরাপদ সার্ভিসের ছোঁয়া পরিবহনের তিন হেলপার।

টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেছেন তারা।

পরে বাসচালক হাবিব ও সুপারভাইজার সফর আলীও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

চার্জশিটে রূপাকে নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন মধুপুর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, হাজতে থাকা ৫ আসামির বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও পরে হত্যার বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।

মামলার আলামত হিসেবে রূপার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ, চশমা, টাকা, রক্তমাখা পোশাক ও ছোঁয়া পরিবহনের বাসটির কথা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় পুলিশ, চিকিৎসক ও বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাসহ ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগুড়ার চারমাথা থেকে যাত্রা করে বনানী বাসস্ট্যান্ড থেকে রূপাসহ দুই নারী ওই বাসে উঠেন। সঙ্গে আরও যাত্রী উঠেন। তারা বিভিন্ন স্থানে অনেকে নেমে যান।

সিরাজগঞ্জ রোড(এলেঙ্গা) পার হওয়ার পর যাত্রী হিসেবে একমাত্র রূপাই বাসটিতে ছিলেন।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী পার হওয়ার পর চলন্ত বাসেই রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

এর পর বাসটির চালক ও হেলপার মধুপুর বনের পঁচিশ মাইল এলাকায় রূপার লাশ ফেলে দিয়ে যায়।
ওই দিন রাতেই অজ্ঞাত হিসেবে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা রুজু করেন।
পরে ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় করবস্থানে রূপার লাশ দাফন করা হয়।
পত্রিকায় এ খবর দেখে রূপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে রূপাকে শনাক্ত করে মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাসসহ আসামিদের দ্রুত আটক করে। এ ঘটনা সারা দেশে তোলপাড় হয়ে যায়।
৩১ আগস্ট বড় ভাই হাফিজুর রহমান প্রামাণিকের আবেদনে রূপার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন আদালত।
ওই দিনই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়ীতে রূপাকে দাফন করা হয়।

শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/এসএসআই