শুক্রবার, ২৩-ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • সরকারের হস্তক্ষেপে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না: খালেদা জিয়া

সরকারের হস্তক্ষেপে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না: খালেদা জিয়া

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:৫৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: সরকারের হস্তক্ষেপে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করে নিজের মামলায় ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
 
বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন খালেদা জিয়া।
 
তিনি প্রথমেই প্রশ্ন তুলে বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের মামলার বিচারকাজ যেখানে করা হয়েছে, সেখানে আমার মামলার বিচার কেন করা হচ্ছে?
 
খালেদা জিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে আরও যেসব মামলা করা হয়েছে সেগুলো অন্য আদালতে বিচারাধীন হলেও এ দুটি মামলা এখানে আনা হল কেন? এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য হল বিচারের নামে আমাকে জনসমক্ষে হেনস্থা ও অপমান করা।

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি থেকেই প্রমাণিত হয়, সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবে আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করে আমার মামলার কাজ এখানে চালাচ্ছে।
 
এ ধরনের আচরণকে স্বাধীন বিচারের অন্তরায় উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমাকে এভাবে হেনস্থা ও অসম্মান করার প্রতিকার কোথায় পাব?
 
নিম্ন আদালতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকায় বিচারকরা যথাযথভাবে বিচার করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, বকশীবাজার কোর্ট ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দীনের শাসনামলের কোর্টের মতো।
 
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের বিরোধ প্রকাশ্য হয়েছে। এ সময় প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বক্তব্য উদ্ধৃত করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের হাত-পা বাঁধা। আর এ কারণে আমার মামলায় ন্যায়বিচার হবে কিনা তা নিয়ে মানুষের মনে সংশয় আছে।
 
তিনি আরও বলেন, মামলায় বিচারের নামে হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হচ্ছি। বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিশেষ আদালতে আংশিক বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

এ সময় আদালতে বেগম জিয়া বলেন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দেয়া হয়েছে। মামলায় দুদকের স্ববিরোধী বক্তব্যে ভরপুর। এ মামলা দুদকের আইনগত কর্তৃত্ব ও এখতিয়ারের বাইরে।

খালেদা জিয়া আরও বলেন, মামলায় বিচারের নামে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও হেনস্থার শিকার হচ্ছি। আমার স্বাভাবিক জীবন-যাপন ব্যহত হচ্ছে।

পরে আদালতে সময় আবেদন করা হয়। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।

এর আগে জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করে এক লাখ টাকার মুচলেকায় জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন এবং পরে জামিন আবেদন করেন।

বিএনপির চেয়াপারসনের পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জামিন চান। অপরদিকে জামিনের বিরোধিতা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেছেন, আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এক লাখ টাকার মুচলেকায় খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ দেন। তবে আদালত বলেছেন, মামলা চলাকালে ভবিষ্যতে বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।  এরপরই আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বক্তব্য শুরু করেন।

এ দিন আদালত এ মামলার অপর দুই আসামি কাজী সেলিমুল হক এবং শরীফ উদ্দীনকে জামিন দিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন দাখিল করে ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দুটি মামলায় তিনি সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। গতকাল রাতে তিনি বাসায় ফিরেছেন। আজ সকালেই তিনি আদালতে এসেছেন আত্মসমর্পণের জন্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণেই জামিন চাইতে এসেছেন। তিনি আদালতের নির্দেশ মান্য করেই চলেন। তাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী জামিন কামনা করছেন।

অপরদিকে জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এর আগেও দুইবার খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করা হয়েছিল। তিনি জামিনের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং তার জামিনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের সময় ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার ছাড়াও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সানাউল্লাহ মিয়া, ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, আবদুর রাজ্জাক খান, নিতাই রায় চৌধুরী, এ জে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে আজ আদালতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আবদুস সালাম, জয়নুল আবদীন ফারুক, আমানুল্লাহ আমান, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাসা থেকে আদালতের উদ্দেশ্যে বের হন। চিকিৎসা শেষে তিন মাস পর গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরেছেন।

বাসে পেট্রলবোমা হামলার মামলায় গত ৯ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন বেগম। এ ছাড়া ১২ অক্টোবর মানহানির মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

অপরদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

শীর্ষনিউজ২৪ডটকম/ইলিয়াস/এইচএস