মঙ্গলবার, ২০-নভেম্বর ২০১৮, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • এনজিওর আড়ালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় ছিলো আনসার আল ইসলাম

এনজিওর আড়ালে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় ছিলো আনসার আল ইসলাম

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার আল ইসলামের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। এনজিও কর্মীদের পরিচয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় ছিলো এই সদস্যরা।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- সাফওয়ানুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, নজরুল ইসলাম, আবু তাহের, ইলিয়াস মৃধা, আশরাফুল আলম, হাসনাইন ও কামরুল ইসলাম। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখ টাকা, একটি ল্যাপটপ, ৮টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ৮টি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও ১০টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গতকাল বুধবার (৭ নভেম্বর) দিবাগত রাতে পল্লবী থানার মিরপুর ডিওএইচএস এর ৯ নম্বর রোডের ৬৪৪ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলা থেকে স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ (এসকেবি) নামের এনজিও অফিস থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ কমিশনার মুহিবুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই এনজিওর মাধ্যমে পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা সেখানে জঙ্গিবাদে উসকানি দেয়া ও সেখান থেকে নাশকতার জন্য সদস্য সংগ্রহ করে আসছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় গ্রেফতাকৃতরা। সেইসঙ্গে এসকেবি এনজিওটির অফিস সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।’
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, ‘এসকেবি’ নামের এনজিও অফিসের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের মতাদর্শের অনুসারীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন যাবত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এনজিওভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের ছদ্মাবেশে ওই এনজিওর সদস্যরা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে উগ্রবাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।
গত আগস্ট মাসে এনজিও ব্যুরো জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যপরিচালনার অপরাধে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এই এনজিওটির কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। এই এনজিওটি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ইসলাম ভিত্তিক সংস্থা থেকে অনুদান সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও দেশে ও বিদেশে হিসাব বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে বলে তথ্যে উঠে আসে।
সিটিটিসি সূত্রে আরও জানা যায়, পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এই এনজিও’র মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বিঘ্নে জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আল খিদমত ফাউন্ডেশনের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তইয়েবার সংশ্লিষ্টতা আছে। গ্রেফতারকৃতরা ও ওই এনজিওটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থনপুষ্ট। তারা এসকেবি এনজিও কার্যক্রমের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিভিন্ন কৌশলে সরকারবিরোধী প্রচারণা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করে তারা দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় আনসার-আল-ইসলামের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করে।
ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘৮ জঙ্গিকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ড পেলে জিজ্ঞাসাবাদে আরও বিস্তারিত তথ্য বের হয়ে আসবে।’
শীর্ষনিউজ/এনএস