বৃহস্পতিবার, ২৭-জুন ২০১৯, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

অবশেষে কানাডায় আশ্রয় পেলেন সৌদি তরুণী রাহাফ

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন

শীর্ষকাগজ ডেস্ক: অবশেষে কানাডায় বৈধ আশ্রয় পেলেন সৌদি তরুণী রাহাফ মুহাম্মেদ আল কুনুন (১৮)। হঠাৎ করে রাহাফের টুইটার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার আশ্রয়ের ব্যাপারে থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রত্যাহারে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো তাকে আশ্রয় দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবারের সঙ্গে কুয়েতে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে পালিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রাহাফ। থাইল্যান্ড হয়ে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যাংককের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী রাহাফকে আটক করে হোটেলের একটি রুমের ভেতর বন্দি রাখা হয়। জোর করে তাকে কুয়েতেগামী বিমানে তুলে দেয়ার চেষ্টাও করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা তাকে বৈধ শরণার্থীর স্বীকৃতি দেয়। এরপর শরণার্থী সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাকে থাইল্যান্ডে রাখার ব্যাপারে সম্মত হয় সে দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দিনের প্রথম ভাগে থাইল্যান্ডের অভিবাসন পুলিশ প্রধান সুরাসাতি হাকপার্ন জানান, ‘অস্ট্রেলিয়া তার শরণার্থী আবেদন গ্রহণ করেছে। কিন্তু তিনি কোথায় যেতে চান সে বিষয়টি জানতে অপেক্ষায় আছি। কুনুনকে আশ্রয় দেয়ার জন্য কানাডাও প্রস্তাব দেয়।’ তিনি কানাডায় যেতে রাজি হয়েছেন। 
পরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, রাহাফকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দেয়ার তথ্য নিশ্চিত করলেও পরে অভিবাসন পুলিশের প্রধান তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এরপর রাহাফের পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। তার টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়।  
এক পর্যায়ে সাংবাদিক সোফি ম্যাকনিল টুইটারে জানান, রাহাফ নিরাপদে আছেন। টুইটারে তাকে অনেকে হত্যার হুমকি দেয়ায় আপাতত তার অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে।
পরে দুই ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি ও রয়টার্স ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে তার কানাডায় আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। 
গত বুধবারেই কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিএনএনকে জানিয়েছিলেন, রাহাফের বিষয়টি তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রয়েছে। ‘কানাডা সবসময় মানবাধিকার প্রশ্নে অবস্থান নেবে। নারীর অধিকার নিশ্চিতে তো অবশ্যই।’ জানিয়েছিলেন তিনি। 
সেই ধারাবাহিকতায় তাকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে জাস্টিন ট্রুডোর দেশ। নারী অধিকারের পক্ষে জোরালো অবস্থানের কারণে আলোচিত প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, 'কানাডার পক্ষ থেকে বরাবরই দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা হয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে আমরা মানবাধিকার ও নারীর অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেব। সে কারণেই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আমাদের সহায়তা প্রার্থনা করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা রাহাফকে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' 
২০১৫ সালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সমসংখ্যক নারী ও পুরুষবিশিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন তিনি। 
এদিকে থাইল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সূত্রে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে কোরিয়ান এয়ার ফ্লাইটে চড়ে ব্যাংকক থেকে কানাডার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন কুনুন।
থাইল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আটক থাকার সময় রাহাফ টুইটারে জানিয়েছিলেন, তার কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা আছে। কিন্তু বিমানবন্দরে সৌদি আরবের এক কূটনীতিক তার সঙ্গে দেখা করে তার পাসপোর্ট জব্দ করেছেন। 
টুইটারে নিজের ছবি ও পাসপোর্টের ফটোকপি প্রকাশ করে লিখেন, 'যেহেতু এখন আমার হারানোর কিছু নেই, তাই আমি আমার আসল নাম এবং সব তথ্য প্রকাশ করছি। আমার নাম রাহাফ মোহাম্মদ মুতলাক আল-কুনুন এবং এটা আমার ছবি।' পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করেছেন তিনি। সৌদি আরবে জোর করে ফেরত পাঠালে তার পরিবার তাকে হত্যা করতে পারে।
শীর্ষকাগজ/এনএস