শুক্রবার, ২৫-মে ২০১৮, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন
  • আন্তর্জাতিক
  • »
  • আগামী নির্বাচনে রাহুল মোদীর বিরুদ্ধে কত বড় চ্যালেঞ্জার?

আগামী নির্বাচনে রাহুল মোদীর বিরুদ্ধে কত বড় চ্যালেঞ্জার?

sheershanews24.com

প্রকাশ : ১৬ মে, ২০১৮ ১১:৩৯ অপরাহ্ন

বিবিসি: ভারতে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী দেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীকে কতটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারবেন, তা নিয়ে আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ছমাসের মধ্যে প্রথমে গুজরাটে ও পরে কর্নাটকে যেভাবে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস প্রচার চালিয়েছে এবং মোটামুটি ভালই ফল করেছে - তাতে অনেকেই বলছেন কংগ্রেস সভাপতি তার ''উদাসীন রাজনীতিকে''র তকমা এতদিনে অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি এখন বেশ সক্রিয় - রাজনৈতিক সভাতেও প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ করছেন বারবার।

কিন্তু মোদী-অমিত শাহ জুটিকে বিপদে ফেলতে হলে রাহুল গান্ধীকে যে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, তা নিয়েও পর্যবেক্ষকদের কোনও সংশয় নেই। নরেন্দ্র মোদীর চ্যালেঞ্জার হিসেবে রাহুল গান্ধী আসলে এখন ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে ?

দিনকয়েক আগে দিল্লির তালকাটোরা স্টেডিয়ামে এক রাজনৈতিক সভায় কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে মাত্র পনেরো মিনিট বলার সুযোগ পেলে তিনি প্রতিরক্ষা বা ব্যাঙ্কিং খাতে দুর্নীতি নিয়ে সরকারকে এমন আক্রমণ করবেন যে "প্রধানমন্ত্রী মোদী ভয়ে সেখানে দাঁড়াতেই পারবেন না"।

প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজে এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে পরে রাহুলকে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেছেন, এমনকী তার দলও দেশের প্রধান বিরোধী নেতাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করতে ছাড়েনি।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র-র কথায়, "পনেরো বছর ধরে যিনি এমপি, তিনি আজ মাত্র ১৫ মিনিট বলতে চান। আসলে গত পনেরো বছর ধরে কাগজে লিখে রিহার্সাল দিচ্ছেন মায়ের সামনে, বলছেন দেখো তো মাম্মি ঠিক হল কি না! এখনও পাস করতে পারেননি। যে পনেরোটা লাইন অবধি ঠিকমতো লিখতে পারে না, তার মুখে এরকম হুমকি মানায় না!"

বিজেপি অবশ্য রাহুল গান্ধীকে নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আসছে বহুদিন ধরেই।

'পাপ্পু' বলতেই উত্তর ভারতে যে বোকাসোকা, অপদার্থ লোককে বোঝানো হয় - সেই নামে রাহুল গান্ধীকে ডাকার পেছনেও বিজেপি ও তাদের তথ্যপ্রযুক্তি সেলের বড় ভূমিকা আছে।

তবে দিল্লির সিনিয়র জার্নালিস্ট সোমা চৌধুরী বিবিসিকে বলছিলেন গত কয়েক মাসে রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে নিজের সেই ইমেজ অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন।

"আগে মনে হত তিনি একজন সাময়িক, 'ড্রপ ইন- ড্রপ আউট' পলিটিশিয়ান। কথায় কথায় পার্টিতে চলে যেতেন, বিদেশে ছুটি কাটাতে চলে যেতেন। লোকজনের সাথে সম্পর্কও রাখতেন না। কিন্তু গুজরাট নির্বাচনের সময় থেকেই দেখা যাচ্ছে তার কথাবার্তা, আচরণে বেশ ধারাবাহিকতা এসেছে। পিআর ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল সবই আগের তুলনায় অনেক ভাল হয়েছে।"

"অর্থাৎ রাজনীতিতে তিনি একটা উপযুক্ত চরিত্র ও কন্ঠস্বর হিসেবে উঠে আসতে চেষ্টা করছেন, যা মোদীর সঙ্গে টক্কর দিতে পারে। এটা তার জন্য নতুন তরতাজা একটা লুক সন্দেহ নেই - কিন্তু এতে রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত মেকওভার হলেও দলের জন্য কিন্তু কোনও মেকওভার হয়নি", বলছিলেন সোমা চৌধুরী।

কন্নড় অভিনেত্রী রাম্যা তথা দিব্যা স্পন্দনাকে রাহুল গান্ধী সম্প্রতি দলের সোশ্যাল মিডিয়া দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনিও বলছিলেন যারাই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন, তারাই তার রসবোধ, জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে অবহিত।

"এখন সেটাই তিনি টুইটারে বার করে আনছেন - যেটা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তার আগে একটা দ্বিধা ছিল", বলছিলেন রম্যা।

তরুণ কংগ্রেস এমপি ও রাহুল গান্ধীর ''ইয়ং ব্রিগেডে''র সদস্য মৌসম বেনজির নূরও মনে করেন শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে নয়, দেশের রাজনীতিতেও তাদের নেতা দারুণভাবে উঠে এসেছেন।

"বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেসের অবস্থা ভাল হচ্ছে। গুজরাটে খুব কম মার্জিনেই আমরা হেরেছিলাম, রাজস্থানে আশা করি জিতব - আর কর্নাটকেও কিন্তু ফল খুব একটা খারাপ হয়নি। যদি কেউ মোদীকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন তাহলে রাহুলজিই সেটা পারবেন, তার নেতৃত্বের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে।"

কিন্তু রাহুল গান্ধী রাজনীতি নিয়েই সিরিয়াস নন, তার কথাবার্তার কোনও গুরুত্ব নেই - এই ছবিটা কি আদৌ পাল্টাচ্ছে?

"অবশ্যই পাল্টাচ্ছে। রাজনীতির বাইরের বহু লোকের সঙ্গেও আমার কথা হয়, তারা সবাই বলছেন রাহুলজির মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে - যদি কেউ পারেন তাহলে তিনিই পারবেন। যেমন ধরুন আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিজেপিরই প্রাধান্য ছিল, কিন্তু সেখানেও এখন রাহুলজির নেতৃত্বে আমরাই এজেন্ডা ঠিক করছি - বিজেপিকে তা ডিফেন্ড করতে হচ্ছে," বলছিলেন মিস নূর।

তবে কর্নাটকে কংগ্রেস তাদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর বিজেপি এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছে, রাহুল গান্ধী দলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই নিয়ে কংগ্রেস মোট ২৭টা নির্বাচনে হারল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোমা চৌধুরীও বলছিলেন, মোদী-অমিত শাহর টক্কর নিতে হলে রাহুল গান্ধীকে আরও অনেক কিছু করতে হবে।

তিনি বলছিলেন, "মোদীর মতো পলিটিশিয়ান আর অমিত শাহ্-র মতো স্ট্র্যাটেজিস্ট - এই জুটির মোকাবিলা করতে হলে যে ধরনের কর্মকান্ড দরকার, অনেক বছর বা অনেক মাস আগে থেকে পরিকল্পনা করে এগোনো দরকার - রাহুল গান্ধীর মধ্যে সেটা এখনও দেখছি না। অমিত শাহ যেমন ভোটের আগে একটা রাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বসে পুরো সংগঠনটাকে কিকস্টার্ট করে দেন, সেরকম কিছু কংগ্রেসে হচ্ছে কোথায়?"

"তা ছাড়া কংগ্রেস তাদের ন্যারেটিভেও নতুন কিছু আমদানি করতে পারেনি। তারা এখনও সেই হিন্দুধর্ম বনাম হিন্দুত্বর ভাবনা নিয়েই খেলছেন, রাহুল গান্ধী একের পর এক মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠেকাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও কোনও কনভিকশন নেই। ফলে মোদী-শাহ জুটিকে সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার মতো কিছু হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না", বলছিলেন সোমা চৌধুরী।

নির্ধারিত সময়ে ভোট হলে ভারতে সাধারণ নির্বাচনের আর বছরখানেকও বাকি নেই। ফলে সেই ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদে বিরোধী শিবিরের সর্বসম্মত প্রার্থী হয়ে উঠতে হলে রাহুল গান্ধীর এখনও অনেক কাজ বাকি, কিন্তু সময় হাতে খুবই কম।

শীর্ষনিউজ/এসএসআই