শুক্রবার, ২৩-ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০২:৩৭ অপরাহ্ন
  • স্বাস্থ্য
  • »
  • ২০০ ধরনের ক্যান্সার, চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি টি-সেল ব্যবহার

২০০ ধরনের ক্যান্সার, চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি টি-সেল ব্যবহার

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: ক্যান্সার। প্রাণঘাতি এক ব্যাধী। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো ক্যান্সার বিস্ময়কর রোগ। তাইতো বিজ্ঞানীরা ক্যান্সারের ধরণ ও এর চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি আবিষ্কারে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এরই মধ্যে প্রায় ২০০ রকমের ক্যান্সার আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। যার বেশির ভাগেরই চিকিৎসা খুবই কঠিন। তবে ক্যান্সার চিকিৎসার এক সম্পূর্ণ নতুন ধরনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। যার মূল কথা হলো, মানুষের দেহের নিজস্ব যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আছে তাকেই ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোকে ধ্বংসের কাজে লাগানো। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষামূলক চিকিৎসা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। ‘ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে’ নামের ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ পরীক্ষা চালাচ্ছে। কেন এই নতুন পদ্ধতি বের করার চেষ্টা- এ প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটন বলেন, ‘মানুষের দেহের যে নিজস্ব রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা- তা প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একেবারেই নিজস্ব। লাখ লাখ বছরের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদের এই ইম্মিউন সিস্টেম এমন ক্ষমতা অর্জন করেছে, যাতে তারা স্বাভাবিক দেহকোষকে বাদ দিয়ে শুধু ব্যকটেরিয়া ও ভাইরাসকে চিনতে পারে এবং তাকে আক্রমণ করতে পারে।’ ইংল্যান্ডের অ্যাবিংডনে ইমিউনোকোর হচ্ছে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান- যারা ইমিউনো থেরাপি ব্যবহার করে কীভাবে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায় তার গবেষণা করছে। এ জন্য তারা ব্যবহার করছে টি-সেল রিসেপটর বা টিসিআর প্রযুক্তি। কীভাবে তাদের পদ্ধতিটা কাজ করবে- এ নিয়ে ইমিউনোকোরের ইভা-লোট্টা অ্যালেন বলেছেন, ‘আমাদের সবার দেহেই টি-সেল বলে একটা জিনিস আছে। একে বলে রক্তের শ্বেত কণিকা। এই সেলগুলোর একটা ক্ষমতা আছে, দেহের ভেতরে বাইরের বা অচেনা কোনো কিছু ঢুকলেই তাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করার। ক্যান্সার সেলও দেহের স্বাভাবিক কোষ নয়। তাই তাকেও আক্রমণ করে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে টি-সেল সাহায্য করতে পারে। আমরা এমন একটা ওষুধ তৈরি করেছি যার প্রতিটি অণুর দু’টো অংশ আছে। এর একটা অংশ ক্যান্সার সেলের সাথে আটকে যায় আর অন্য প্রান্তটা একটা সংকেতের মাধ্যমে টি-সেলকে তার দিকে আকর্ষণ করতে থাকে। তখন টি-সেলগুলো এসে ওই ওষুধের অণুর সাথে যুক্ত হয় এবং ক্যান্সার সেল-শুদ্ধ তাকে ধ্বংস করে দেয়।’ ইভা-লোট্টা অ্যালেন বলেন, ‘আমরা এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের একটা পর্যায়ের কাজ করছি। কাজটা হচ্ছে মানুষের চোখে খুবই বিরল একধরনের ক্যান্সার হয়- তার ওপর। এটা খুবই আক্রমণাত্মক এক ধরনের ক্যান্সার এবং খুব দ্রুত লিভারে বা যকৃতে ছড়িয়ে পড়ে। এখন ক্যান্সারের যেসব ওষুধ আছে তার কোনোটাই এ ক্ষেত্রে কাজ করে না।’ কে ব্লেক হচ্ছেন ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে কাজ করে এমন একটি গ্রুপের সদস্য। তিনি বলছেন, এই নতুন পদ্ধতি ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে নতুন আশার জন্ম দেবে। কে ব্লেকের ভাষায়, ‘এখানে যদি আমরা একটা নিরাময়ের উপায় বের করতে পারি তা হবে বৈপ্লবিক। কারণ আপনার যদি বিরল এবং বিপজ্জনক ধরনের ক্যান্সার হয়- তার পরও আপনার মনে হবে যে-না, আমার একটা আশা আছে।’ ইমিউনোকোর এ পর্যন্ত ১৩০ জন রোগীর চিকিৎসা করেছে। এর প্রাথমিক ফল ইতিবাচক। তবে বাজারে ছাড়ার মতো একটি ওষুধ তৈরি করতে এখনো কয়েক বছর লাগবে। কারণ ল্যাবরেটরিতে একটি ওষুধ তৈরি করা থেকে তা বাজারে নিয়ে আসা একটি সময়সাপেক্ষ এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। যেমনটা বলছিলেন অধ্যাপক সোয়ানটন, ‘এই চিকিৎসাপদ্ধতি বের করার যে খরচ- তা কোটি কোটি ডলারের ব্যাপার। এখানে এমন কি এটা একশ ডলার বা পাউন্ড পর্যন্তও উঠতে পারে। বিনিয়োগকারীদের সমর্থন ও সহযোগিতা খুবই দরকার। যার ফলে ল্যাবরেটরির আবিষ্কারটিকে বাস্তব দুনিয়ায় সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে আসা যায়।’ একটি কোম্পানি ইতিমধ্যেই একই ধরনের প্রযুক্তিতে তৈরি তাদের ওষুধের অনুমোদন পেয়েছে- যেটা হলো নোভার্টিস। তারা এআরটি নামে একটি ইমিউনো থেরাপি প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যা বিশেষত শিশুদের লিম্পোব্লাটিস্টক লিউকেমিয়ার চিকিৎসায় কাজে লাগবে। এই চিকিৎসায় এখন খরচ হয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। আমেরিকার কিছু ক্লিনিকে এটা করা হচ্ছে। ড. সোয়ানটন বলছেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, আগামী দু’দশকে আমরা এমন সব ক্যান্সারের চিকিৎসায় অগ্রগতি দেখতে পাবো- যার চিকিৎসা সম্ভব- এমনটা কেউ কল্পনাও করতেন না।’ ক্যান্সার আছে প্রায় ২০০ রকমের, এ কারণে এর চিকিৎসা খুবই কঠিন। ইমিউনো থেরাপি চিকিৎসা এখনো প্রাথমিক স্তরে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, ক্যান্সার রোগীদের সত্যি সত্যি নতুন আশার বাণী শোনাতে পারে এ পদ্ধতি। সূত্র: বিবিসি।

শীর্ষনিউজ/এইচএস