বৃহস্পতিবার, ২০-জুন ২০১৯, ০৭:১১ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • ঢাবির অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ : ক্ষোভে ফুঁসছে সাত কলেজের দু’লাখ শিক্ষার্থী 

ঢাবির অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ : ক্ষোভে ফুঁসছে সাত কলেজের দু’লাখ শিক্ষার্থী 

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ২৩ মে, ২০১৯ ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: সেশনজট কমানোসহ উচ্চ শিক্ষার মান বাড়ানোর কথা বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র সম্পূর্ণই উল্টো। সাত কলেজে তীব্র সেশন জটের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গণহারে ফেল করার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ নিয়ে স্বস্তিতে নেই সাত কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী অথবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেউই। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের একরাশ স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হওয়া সাত কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন এখন সেশনজটে আটকা পড়ে আছে। সেশনজট, গণহারে ফেল, নিজস্ব প্রশাসনিক ভবনের অভাব, ত্রুটিযুক্ত সিলেবাস, সেকেলে পদ্ধতিতে পাঠদানসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়া এক প্রকার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে একাধিকবার ক্লাশ বর্জন, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, ভিসি’র কার্যালয় ঘেরাওসহ বহু কর্মসূচি পালন করলেও তেমন একটা ফল আসেনি। দিন দিন জটিলতা বাড়ছে। কারণ এই অধিভুক্তিতে খুশি নন স্বয়ং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। তারা দাবি করছেন, এমনিতেই ঢাবি তার নিজের ছাত্রদের পূর্ণ অধিকার দিতে পারছে না, তার উপর আবার এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বোঝা কাঁদে নিয়েছে। এ যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ। অধিভুক্তি হওয়া নিয়ে সাত কলেজ শিক্ষার্থী এবং বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের মধ্যেই অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে দুই পক্ষের আন্দোলনকেই সামাল দিতে হচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তীব্র সেশনজট ও খারাপ ফলাফলের জন্য সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। 
গেল সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত কলেজগুলোয় শিক্ষাকার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা, ফলাফলে অসন্তোষ, স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, ঢাবি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া, সেশনজট দূরীকরণে ক্রাশ কর্মসূচি নেওয়া ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ৫দফা দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাত কলেজকে অধিভুক্ত করে নিজেদের মনগড়া নীতিতে পরিচালনা করছেন। মানববন্ধন সম্পর্কে আন্দোলনের সমন্বয়ক ঢাকা কলেজ মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বি এম শাহীন বলেন, সরকারের পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের সরকারী সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। আমাদের যে আশার আলো দেখানো হয়েছিল তার কোনটিরই বাস্তবায়ন আমরা দেখছি না। বরং সুযোগ-সুবিধার পরিবর্তে পদে পদে শোষণ আর বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। শুধুমাত্র একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও আমাদের অনেক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সেশনজটের জটিলতায় ভুগছে। এসব অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদে বেশ কিছু দাবি নিয়ে আমরা মানববন্ধনসহ অন্যান্য কর্মসূচী পালনের ডাক দিয়েছি।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবিসমূহ হচ্ছে- ১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সকল বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করতে হবে; ২. ডিগ্রী, অনার্স ও মাস্টার্সের সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনঃ মূল্যায়ন করতে হবে; ৩. সাত কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র ভবন তৈরি করতে হবে; ৪. প্রতিমাসে প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুইদিন করে সর্বমোট ১৪ দিন ঢাবি শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে; ৫. সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো মানা হলে হয়রানি কিছুটা লাঘব হবে। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এইসব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মুখের কথায় বিশ্বাস করছেন না। তারা বলেছেন, দাবি শিগগির বাস্তবায়ন না করা হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচীর ঘোষণা দেওয়া হবে।
মারাত্মক সেশনজটে পড়েছেন সাত কলেজের লাখো শিক্ষার্থী। ফলে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন তারা। এক্ষেত্রে সময়মতো পরীক্ষা না নেওয়া এবং ফলাফল প্রদানে দেরি হওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। এ কারণে একই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের চেয়ে এক বছর পিছিয়ে আছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সাত কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। তারা সেশনজটে পড়তে চান না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসনে নেওয়া ‘ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় এখন সময়মতো পরীক্ষা হয়, ফল প্রকাশ হয়। কিন্তু সাত কলেজে এগুলোর কিছুই হয় না। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সেশনজট নিরসনে সাত কলেজকে ঢাবি’র অধিভুক্ত করা হয়। তবে তা ভাল ফল বয়ে আনেনি। বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে তার ফলাফল এক বছর পরেও প্রকাশিত হয় না। আবার নতুন বর্ষের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেন না বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, তাই নিয়মিত ক্লাশও হয় না। আর সিলেবাসও শেষ হয় না কখনও। অথচ একই শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কোন খবর নেই। বিষয়টি স্বীকার করে সাত কলেজ কর্তৃপক্ষ বলেন, অধিভুক্তি হওয়ার পর সাত কলেজের সমন্বিত পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফল প্রকাশে বিলম্বিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হচ্ছেন। এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের বক্তব্য হচ্ছে, দ্রুতই সাত কলেজের পরীক্ষার ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে। অনেক শিক্ষার্থী হওয়ায় সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। ধীরে ধীরে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সময়মতো সিলেবাস না দেয়া, ক্লাশ অনুষ্ঠিত না হওয়া, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া, ফলাফল না দেওয়া সহ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত সাত কলেজের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসির ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে এবং সরকারের সিদ্ধান্তে রাজধানীর সাতটি সরকারের কলেজকে ঢাবিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। অবশ্য এতে কেউই লাভবান হয়নি। দুই ভিসির ক্ষমতার দ্বন্দ্বে কপাল পুড়েছে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছেন, সাত কলেজের প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। জনবল সংকট তো রয়েছেই। সেইসাথে অনেকদিন পরেও সাত কলেজের শিক্ষাসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম কে দেখভাল করবে তাও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। নানামুখি সমস্যার সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামে। বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন তড়িঘড়ি করে সাত কলেজের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথমে কেবলমাত্র দুইজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়। ফলে প্রশাসনিক কাজে তেমন কোন গতি আসেনি। পরবর্তীতে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আরো দু’জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বিষয়টি অযৌক্তিক হলেও সত্য যে, দু’লাখ শিক্ষার্থীর ভাগ্য নির্ধারণে কেবলমাত্র চারজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। প্রত্যেকবারই আন্দোলনের মুখে পড়ে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমস্যা নিরসনের আশ^াস দেয়। কিন্তু মাত্র চারজন কর্মকর্তা দিয়ে কিভাবে সাতটি কলেজকে পরিচালনা করা হবে তা কেবল বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই জানে। অবশ্য শিক্ষার্থীরা আলাদা প্রশাসনিক ভবন তৈরি করে সমস্যাটি সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বারবার সিলেবাস ও পাঠ্যসূচির পরিবর্তনে সাত কলেজের শিক্ষার মানের উন্নতি হচ্ছে না। বরং এতে শিক্ষার্থীরা যেমন বিভ্রান্ত, তেমনি বিভ্রান্তিতে থাকছেন শিক্ষকরাও। কলেজগুলোর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে শিক্ষকদের সংখ্যা শিক্ষার্থীর চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। তাই শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নিতে পারেন না।  শিক্ষার্থীরা তাদের সিলেবাস বা পাঠ্যবই সম্পর্কে তেমন কোন ধারণাও পায় না। এমনও ঘটনা আছে যে, শিক্ষাবর্ষের শেষে এসেও অনেক শিক্ষার্থী জানেন না কোন বই থেকে প্রশ্ন হবে বা সে কিভাবে পরীক্ষা দিবে। অন্যদিকে বাজারে নতুন বই আসতে অনেক দেরি হয়। আর বই আসলেও সিলেবাসের পরিবর্তনের কারণে বইয়েরও পরিবর্তন হয়। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অগ্রিম বই কিনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন অথবা কোন বই-ই কিনেন না। এর প্রভাব পড়ে সিজিপিএতে। ক্লাস ঠিকমতো না হওয়ায় মেথমেটিক্যাল বিষয়গুলোতে খারাপ রেজাল্ট করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় প্রত্যেককেই শিক্ষকদের কাছে কোচিং-এ পড়তে হয়। কলেজে শিক্ষার্থীদের যত টাকা খরচ না হয় তার চেয়ে কয়েকগুণ টাকা খরচ হয় শিক্ষকদের কাছে কোচিং এ পড়তে। অনেক সময় শিক্ষকরা ছাত্রদের আশ^াস দেন, তাদের কাছে পড়লে ভাইভা-ট্রাম পেপারে বেশি নাম্বার দেয়া হবে। কিন্তু ভাইভা-ট্রাম পেপারে নম্বর প্রদানের বিষয়টি বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণই বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধীনে। তাই অনেক শিক্ষার্থী ভাইবা-ট্রাম পেপারে নম্বর কম পান। যেটি তাদের সিজিপিএতে খারাপ প্রভাব ফেলে।
অধিভুক্ত সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কলেজের সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা থাকেন। এ পরীক্ষার ২০ শতাংশ খাতা মূল্যায়ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা; আর ৮০ শতাংশ মূল্যায়ন করেন কলেজের শিক্ষকরা। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ভার্সনে পরীক্ষা দেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ইংরেজি ভার্সনে অভ্যস্ত। তাই তাদের বাংলায় লেখা পরীক্ষার খাতা মূল্যয়নে সমস্যা হয়। আর এতেই কপাল পুড়ে শিক্ষার্থীদের। তারা ভালো লিখেও মার্কস কম পান। হঠাৎ করে অধিভুক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ভার্সনে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীরা যে ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষা দিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করবে না তা খুবই স্বাভাবিক। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের অন্ত নেই। অনেকে ভালো পড়াশোনা করেও ফার্স্ট-ক্লাস মানের ফলাফল করতে পারছে না। তাই শিক্ষার্থীরা তাদের  ৫ দফা দাবিতে ঢাবি শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
সেশনজট ও শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্পর্কে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল সেশনজটমুক্ত করা। ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ এর মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সেশনজট মুক্ত। আমরা এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যেসব কলেজ আছে সেগুলোর শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাজ করছি।’ অধিভুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীরা বলছে, রাজধানীর সাত কলেজকে অধিভুক্তির দুই বছর পেরোলেও বাস্তবে কোনো সুফল মেলেনি। বরং ভোগান্তি বেড়েছে। বছর শেষে চূড়ান্ত পরীক্ষা, ফল প্রকাশ কিংবা মানোন্নয়নের বিষয়ে কোথাও সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো বিষয়ে জানতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখিয়ে দেন। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে কোনো ফলই আসছে না। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৬ মে ২০১৯ প্রকাশিত)