মঙ্গলবার, ২৫-জুন ২০১৯, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্প: শত কোটি টাকা হরিলুট, পিডিকে দুদকে তলব

‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্প: শত কোটি টাকা হরিলুট, পিডিকে দুদকে তলব

Sheershakagoj24.com

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারী, ২০১৯ ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দেশের জলবায়ুদুর্গত, ভূমিহীন, গৃহহারা, ঠিকানাবিহীন, নদী ভাঙনের শিকার দরিদ্র পরিবারগুলোর আশ্রয়ণ ও পুনর্বাসনের জন্য নেয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘গুচ্ছগ্রাম’। সরকারি খাস জমিতে গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। বর্তমানে চলমান গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের অধীনে সারাদেশে ৫০ হাজার ভূমিহীনের জন্য গৃহনির্মাণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্প লুটপাট, দুর্নীতি, জালিয়াতি, অনিয়মের কারণে ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ এমনকি ব্যর্থ হতে চলেছে। অসহায় মানুষের জন্য নেওয়া এই প্রকল্পে নানাভাবে রীতিমতো হরিলুট চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মাহবুব-উল-আলম। সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে নানা জালিয়াতি, কারসাজির মাধ্যমে প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছেন তিনি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পটি এখন লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে। গৃহহীন অসহায় মানুষের পাতে রীতিমত কালো থাবা বসিয়েছেন পিডি মাহবুব-উল-আলম। তিনি অত্যন্ত কৌশলে বিভিন্ন জায়গায় গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিক্রি করে ঠিকাদারের মাধ্যমে কমিশন আদায় করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের স্থানীয় কমিটি, ইউপি চেয়ারম্যান, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি নানাভাবে বাণিজ্য চালাচ্ছেন। রেশনের চাল বিক্রি করে ভাগবোটোয়ারা করে নিচ্ছেন। গৃহ নির্মাণ ও মাটির কাজে তার বিশেষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করছেন। প্রকল্প পরিচালক মাহবুব-উল-আলমের এসব দুর্নীতি-অপকর্মের সুনিদিষ্ট তথ্য ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের হাতেও পৌঁছেছে। আর এ কারণে দুদক তাকে তলব করেছে। তবে গত ১২ ডিসেম্বর দুদক কার্যালয়ে জবানবন্ধি দেয়ার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও ওইদিন প্রকল্প পরিচালক মাহবুব-উল-আলম হাজির হননি। এ ব্যাপারে দুদক আইনানুগ ব্যবস্থাসহ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
১৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প
ইতিপূর্বের পুনর্বাসন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা হিসেবে সারাদেশে ৫০ হাজার গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ‘গুচ্ছগ্রাম-২য় পর্যায় (ক্লাইমেট ভিক্টিমস্ রিহ্যাবিলিটেশন)’ নামে নতুন প্রকল্প চালু করা হয়। শুরুতে এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনের ফলে ভূমিহীন ১০ হাজার পরিবারের মধ্যে বসতবাড়ি বিতরণ করার পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একনেকে এ সংক্রান্ত প্রকল্প পাস করা হয়। তখন এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৫৮ কোটি টাকা। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের আওতা বাড়িয়ে ৫০ হাজার গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনের কর্মসূচি নেয়া হয়।  ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ সংক্রান্ত ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৯৪২ কোটি টাকা। এখন প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বসতভিটা তৈরি, মাটির কাজ ও আনুষঙ্গিক কাজে এই অর্থ ব্যয় করার কথা। প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৩০০ বর্গফুট ফ্লোর স্পেসে আরসিসি পিলারসহ দু’কক্ষবিশিষ্ট ঘর এবং পাঁচ রিং বিশিষ্ট স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ করা হয়। সরকারি খাস জমিতে এসব বসতভিটা নির্মিত হয়। বসতভিটা বিতরণ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য সরকার প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ১৫ হাজার টাকা দেয়। এসব এলাকায় সুপেয় পানি এবং বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়।
যেভাবে লুটপাট
সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। যদিও এটি সরকারের একটি মহতি উদ্যোগ, কিন্তু দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক মাহবুব-উল-আলম ও তার দুর্নীতির সহযোগীদের লাগামহীন অপকর্মে প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প অনুমোদনের পর ঘর নির্মাণ ও মাটির কাজের ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক মাহবুব সরাসরি প্রভাব খাটিয়ে থাকেন। এসব কাজে কাকে ঠিকাদারি দিতে হবে তিনি আগে থেকেই বলে দেন। মাটির কাজে প্রতিটন খাদ্যশস্য বরাদ্দে তিনি ৩ হাজার টাকা করে নেন। প্রতিটি ঘর নির্মাণে গোপন কমিশন নেন ৬ হাজার টাকা। এছাড়া যারা এসব ঘরে আশ্রয়ের সুযোগ পাবেন তাদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও চলে দুর্নীতি। প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেয়া হয়। পিডি মাহবুব ঠিকাদার এবং দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অর্থ আদায় করেন। এভাবে সব মিলিয়ে পিডি মাহবুব প্রায় শত কোটি টাকা ইতোমধ্যে লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 
উল্লেখ্য, প্রশাসনের যুগ্মসচিব মাহবুব-উল-আলম ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের পরিচালক পদে নিয়োগ পান। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, প্রকল্পের শুরু থেকেই এখন পর্যন্ত এ পদে বহাল আছেন তিনি। উপরের বিভিন্ন মহলকে নানাভাবে ম্যানেজ করে প্রকল্পের কাজকর্মে লাগামহীন দুর্নীতি-অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন পিডি মাহবুব। আর এ কারণেই প্রকল্পটি এখন বেহাল দশায় পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মকর্তা সব ধরনের প্রটোকল ভেঙে যেসব এলাকায় বেশি গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প রয়েছে ওইসব জেলার সার্কিট হাউজে অবস্থান করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও ঠিকাদারদের ডেকে নিয়ে কমিশন আদায় করেন। উপ-প্রকল্প পরিচালক, সহকারী প্রকল্প পরিচালক বা প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রকল্পগুলো পরিদর্শনে যাওয়ার কথা থাকলেও তাদের না পাঠিয়ে নিজেই কমিশন আদায়ের জন্য প্রকল্প এলাকাগুলোতে পরিদর্শন করতে যান মাহবুব-উল-আলম। 
গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের গ্রাম নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত গ্রামের বসতভিটা উঁচুকরণ, পুকুরখনন ও পুনঃখনন, সংযোগ রাস্তা নির্মাণ প্রভৃতি বাস্তবায়ন হয় কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির (কাবিখা) মাধ্যমে। নিয়ম মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে এ কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু এই কমিটির সঙ্গে যোগসাজশ করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ ভাগবাটোয়ারা করেন প্রকল্প পরিচালক। প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে তার নেতৃত্বে টাকা আত্মসাত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সংখ্যা যত দেখানো হচ্ছে আসলে ততো লোক সুবিধা পাচ্ছে না। সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেশি দেখিয়ে তাদের নামে অর্থ লুটপাট হচ্ছে। 
জানা গেছে, সুবিধাভোগীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা থাকলেও নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ আত্মসাত, গৃহ নির্মাণ, ল্যাট্রিন, নলকূপ স্থাপনসহ অন্যান্য কাজের বরাদ্দ থেকেও অর্থ আত্মসাত হয় পিডির নেতৃত্বে। গৃহ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ১৯৮৬ সালে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেয়া কর্মকর্তা মাহবুব-উল-আলম অতীতে যেখানেই কর্মরত ছিলেন সেখানেই দুর্নীতির থাবা বসিয়েছেন। জনশ্রুতি আছে মাহবুব বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ের সাথে জড়িত থাকার ফলে দুই বার প্রমোশন থেকে বাদ পড়ায় তিনি অতিরিক্ত সচিব হতে পারেননি। তিনি সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) হয়েও সকল প্রকার প্রটোকল ভেঙে গুচ্ছগ্রামের জন্য সম্প্রতি সিলেট হাওর এলাকার চেয়ারম্যান এবং ঠিকাদারদেরকে সরাসরি ফোন দিয়ে টাকা চেয়েছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। শুধু সিলেটই নয়, অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের এবং ফৌজদারি মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ দিতে বাধ্য করেন। প্রকল্প পরিচালকের মদদে সারাদেশে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে কী পরিমাণ অনিয়ম দুর্নীতি হরিলুট হচ্ছে উল্লেখিত কয়েকটি ঘটনাতেই তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
এক ঘরের কাজ করে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রাজাগঞ্জ বাজারের পাশে ‘গুচ্ছগ্রাম’ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত অর্থ বছরে এর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র একটি ঘরের আংশিক নির্মাণ করা হয়। ৪৬ লাখ টাকা ও ২৪ টন চাউল ব্যয়ে কাজটি টেন্ডারে না দিয়ে প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এক ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাত্র একটি ঘর নির্মাণ করে ২০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। গৃহনির্মাণে পাকা পিলারে কাটা পাথর দেয়ার কথা থাকলেও নিম্নমানের সিংগেল পাথর ও স্বল্প সিমেন্ট দিয়ে যেনতেনভাবে ২৫টি ঘরের খুঁটি তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দু’টি কমিটি গঠন করা হয়। এরমধ্যে টিউবওয়েল, আলাদা রান্নার ঘর, চুলাসহ ২৫টি ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা কমিটির মালামাল কেনার কথা। আর ইউনিয়ন কমিটি মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্তু ঠিকাদার ও কমিটি মিলে প্রকল্পের কাজ না করে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা আত্মসাত করছেন। মাটি কাটার জন্য ২৪ টন চাউল বরাদ্দ করা হলেও মাত্র চার-পাঁচ টন চাউলের মূল্যের কাজ করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ছোট দুটি নালা ভরাট করে এবং ঘাসের উপর সামান্য মাটি ফেলা হয়েছে। 
প্রকল্পের অর্থ পিডি-ইউএনও’র পেটে
মাগুরার শালিখা উপজেলার পোড়াগাছি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণে আর্থিক দুর্নীতি এবং ভূমিহীনদের নামে ঘর বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউএনও সুমি মজুমদার জেলা প্রশাসনকে পাস কাটিয়ে একক কর্তৃত্বে সমুদয় কাজটি সম্পন্ন করতে গিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেন। পিডি মাহবুবের যোগাসাজশে তিনি এ অপকর্ম করেন। মাগুরার এ প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে ঘর নির্মাণ বাবদ ৩১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং মাটির কাজের জন্য কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ৩৬ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘর নির্মাণ শেষে চলতি মাসের প্রথম দিকে ২০টি পরিবারকে সেখানে বসবাসের জন্য তুলে দেয়া হয়েছে। তবে নির্মাণ কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতা, অপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা, এমনকি গৃহহীন পরিবার চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রেও অস্বচ্ছতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ১ একর ১০ শতাংশ খাস জমির ওপর ২০টি ঘর ও ২০টি ল্যাট্রিন তৈরির জন্য প্রকল্প সভাপতি সুমি মজুমদার মাগুরা শহরের পুলিশ লাইন এলাকার সিহাব আহমেদ নামে এক লেদ মালিককে নিযুক্ত করেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর ল্যাট্রিনসহ একেকটি ৩শ’ বর্গফুট আয়তনের ২০ টি কাঁচা মেঝের টিনের ঘর তৈরি করেন ঠিকাদার। এ কাজের বিপরীতে অর্থও পেয়ে গেছেন তিনি। ওই কাজের জন্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে সিহাব আহমেদ জানিয়েছে। অথচ নির্মাণ ব্যয়ের তথ্য গোপন করে বাকি অর্থ ইউএনও সুমি মজুমদার পিডি মাহবুব-উল-আলমের সঙ্গে ভাগবাটোয়ারা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে গুচ্ছগ্রামে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৬ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন চালের মধ্যে ইউএনও সুমি মজুমদার তিনটি ধাপে মোট ২৭ দশমিক ৫০ টন চাল উত্তোলন করেছেন বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ ৭২ হাজার ৫শ’ টাকা। অথচ মাত্র আড়াই লাখ টাকার মাটি ব্যবহার করে বাকি টাকা ইউএনও রেখে দিয়েছেন। ৩টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্যে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে কোনো নলকূপ স্থাপন না করে সেটি তছরূপ করা হয়েছে। এসব অর্থের একটি বড় অংশ পেয়েছেন পিডি মাহবুব।  
প্রকল্পের বেহাল দশা, সুবিধা পাচ্ছেন না গৃহহীনরা
পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের এখন বেহাল দশা। সিভিআরপির এ প্রকল্পে ৮০ টি বসতবাড়ির মধ্যে ৩০টির নির্মাণকাজ আজো শেষ হয়নি। এ বাবদ বরাদ্দকৃত অর্থ ইতোমধ্যে আত্মসাত হয়েছে। ফলে গুচ্ছগ্রাম-২ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৩০ পরিবার। নতুন ঘরে উঠতে না পারায় ওই পরিবারগুলো মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। প্রথমে ৫০টি ও পরে ৩০টি ঘর নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ পান পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর কুতুবুল আলম। কিন্তু পিডি মাহবুব উল আলমের যোগসাজশে তিনি এই অর্থের একটি অন্যতম অংশ আত্মসাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 
জানা গেছে, কোটি টাকা ব্যয়ে দহগ্রাম বড়বাড়ী এলাকায় প্রথম দফায় ৫০টি ঘরের নির্মাণ কাজ কিছুটা ভালো হলেও পরের ৩০টি ঘরের নির্মাণ কাজ দায়সারাভাবে করা হয়েছে। ওই প্রকল্পের ঘরগুলোতে মাটি ভরাটের কাজ দেয়া হয়েছিল দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইদুল ইসলামকে। অভিযোগ রয়েছে, ঘরগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ইউপি সদস্য মাটি ভরাটের কাজ আজো সম্পন্ন করতে পারেননি। অপরদিকে ইউএনও নুর কুতুবুল আলম ওই প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই কাগজ-কলমে তা সম্পন্ন দেখিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হয়ে ঠাকুরগাঁও বদলি নিয়ে চলে যান। ওই প্রকল্পের সুবিধাভোগী আব্দুর ছাত্তার বলেন, প্রকল্পে এসে দেখি ঘরে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। ঘরের ভেতর শেয়াল কুকুরসহ বিভিন্ন পোকা-মাকড়ের বসবাস। ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরে নিজের টাকায় মাটি ভরাট করেছি। 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ প্রকাশিত)