শুক্রবার, ১৪-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন

আবারো হেলমেট বাহিনী!

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৭:২৩ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা : নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলীয় কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় হেলমেট বাহিনীর তা-ব দেখা গেছে। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও মাথায় হেলমেট পড়ে একদল যুবক পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে।
এর আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর একইভাবে হামলা করতে দেখা গেছে হেলমেট পরা একদল যুবককে।  
আচমকা এই হেলমেটধারীদের আক্রমণ নিয়ে এখন নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ মনোনয়ন উৎসবে হঠাৎ করে কোথা থেকে এই হেলমেট বাহিনী এলো এবং সঙ্গে সংঘর্ষ বাধালো সেই প্রশ্নই ঘুরে ফিরে করেছেন বিএনপি নেতারা।
সংঘর্ষের পর হেলেমেটধারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, আজকের হামলা ওবায়দুল কাদেরদের ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগ এখন জনবিচ্ছিন্ন, এজন্য তারা এ হামলা করছে। রিজভী বলেন, গত কিছুদিন আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিল। তখন হেলমেট বাহিনীরা রাস্তার গাড়িতে হামলা করেছিল, আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। আজকেও হেলমেট বাহিনীরা গাড়িতে হামলা করেছে, আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এই হেলমেটধারী কারা? এরাই হচ্ছে সরকারের এজেন্ট। নিজেরা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপায়।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে এই হেলমেটধারীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন জ্বালায়। তারপর গলিতে রাখা সাংবাদিক এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের গাড়িতে আগুন জ্বালাতে আসে।
তখন বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত ৫০ জনের অধিক বিএনপির নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহত নেতাকর্মীদের অনেকেই জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনায় অনেকেই আজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমা দিতে পারেননি।

বিএনপির কার্যালয় থেকে জানা যায়, বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৭৭টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জমা দেওয়া হয়েছে ৩৩৭টি।
সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে বিশাল কর্মী বাহিনীও ছিলো। নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এই সময় পুলিশ শোডাউনের পেছনে থাকা দুই বিএনপি কর্মীকে লাঠিচার্জ করে। তারা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন।
কিন্তু পুলিশ আবারো লাঠিচার্জ করলে উত্তেজিত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন দলীয় কর্মী আহত হয়। এতে বিএনপি কর্মীরা সরে গিয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এরইমধ্যে একদল যুবক মুখে কালো কাপড় এবং মাথায় হেলমেট পরে পুলিশের গাড়ির ওপর তা-ব চালায়। ভাঙচুর করতে থাকে। তারা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।


এ সংঘর্ষ শুরুর আগে গত দুই দিনের মতো আজকে শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়নপত্র বিতরণ ও গ্রহণ চলছিল। একইভাবে সেখানে সমাগম ছিল বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থকের।
শীর্ষ নিউজ/এন