শুক্রবার, ১৪-ডিসেম্বর ২০১৮, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন

ইসির ‘একচোখা’ নীতিতে ক্ষুব্ধ বিএনপি

Shershanews24.com

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির ভূমিকায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না বিএনপি। বিএনপি বলছে, ইসি এখন পর্যন্ত একচোখা নীতিতেই চলছে। সাংবিধানিক এই সংস্থাটি তফসিল ঘোষণার পরেও নিরপেক্ষ ভূমিকায় যেতে পারছে না। তফসিল ঘোষণার পরেও সারাদেশে বিএনপি জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি জামিনে থাকা নেতাকর্মীদের পর্যন্ত গ্রেফতার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিএনপি মনোনয়ন ফর্ম বিক্রির ঘোষণা দেয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উৎসবমুখর ভিড় দেখা গেছে। এর দুদিন পার না হতেই গতকাল পুলিশকে চিঠি দিয়েছে ইসি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র উত্তোলন ও জমা দেয়ার সময় কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল শোডাউন বা জমায়েত করতে পারবে না। অথচ এতোদিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এমন ভিড় থাকলেও ইসির পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিলো না। এমন পরিস্থতিতে বুধবার নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগের দাবি নিয়ে ইসিতে পৌঁছেছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তারা বলছেন, ইসির একরোখা নীতিতে তারা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তফসিল একমাস পেছানোর দাবি জানানো হলেও তা মাত্র এক সপ্তাহ পিছিয়েছে ইসি। বিএনপি বলছে, তফসিল ঘোষণা হলেও  সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি ইসি। এমনকি ইভিএম ব্যবহারে বিরোধিতা করা হলেও তাতেও অনড় রয়েছে কমিশন। এসব বিষয়ে সমাধানে আসতে নির্বাচন অন্তত একমাস পেছানো জরুরি বলে বিএনপি মনে করছে। তবে ৩০ ডিসেম্বরের পর আর ভোট পেছানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। 
ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ব্যবস্থাগুলো নেয়া উচিত, সেগুলো নিতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করার রেওয়াজ থাকলেও  এবার  তা করা হয়নি। আমরা এতে অত্যন্ত হতাশ হয়েছি। আমরা মনে করছি, নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আগ্রহী নয়।

তিনি আরো বলেন, আলোচনা করে এক মাস তফসিল পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। এটা করা অত্যন্ত জরুরি। যে সময়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, সে সময় বড়দিনের ছুটি থাকবে। আমাদের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসবের আমেজে থাকবেন। কারণ এটা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এছাড়া নববর্ষ আসছে, সেটাও একটা বড় অনুষ্ঠান। তখন বিদেশী পর্যবেক্ষক আসার সুযোগও থাকবে না। এজন্য নির্বাচন পেছানোর এ দাবি জানাচ্ছি আমরা।  তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলছেন, নির্বাচন আর পেছানোর উপায় নেই। ৩০ ডিসেম্বর ভোট হবে।
এদিকে আজ ইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের পক্ষ থেকে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক এ চিঠি পৌঁছে দেন।

জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে একটি রেওয়াজ ছিল, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে তফসিল ঘোষণা করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে এ রেওয়াজ মানা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সংলাপ শেষ হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা করে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এক মাস নির্বাচন পেছানোর দাবি করলেও সরকারের পরামর্শক্রমে নির্বাচন সাতদিন পিছিয়ে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। এমতাবস্থায় সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন করার স্বার্থে আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় আপনার দপ্তরে এসে নির্বাচনের তফসিলসহ সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।

শীর্ষ নিউজ