মঙ্গলবার, ২০-নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • দুর্নীতির দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া সেই অধ্যক্ষের আবারো নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পোস্টিং

দুর্নীতির দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া সেই অধ্যক্ষের আবারো নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পোস্টিং

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৯:১২ অপরাহ্ন

 শীর্ষকাগজের সৌজন্যে : দুর্নীতির দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়ার দুই বছরের মাথায় নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের দুর্নীতিবাজ সেই অধ্যক্ষকে আবারো একইপদে পদায়ন করা হয়েছে। ক্যাডার সার্ভিসে একই জায়গায় একইপদে পুনরায় পদায়নের এই ঘটনা নজিরবিহীন। চাকরিবিধি অনুযায়ী একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার খায়েশ পূরণে এ ধরনের পদায়ন সম্পূর্ণ আইন ও নিয়ম বহির্ভূত। 
জানা যায়, ২০০৯ সালের  ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীর আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. আব্দুছ ছালাম। এরপর থেকে রীতিমতো সেখানে জেঁকে বসেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৯ জুন অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে অবস্থান আরো পাকাপোক্ত হয়। ওই কলেজে একটানা কাটিয়ে দেন ৭ বছর। এই ৭ বছরে অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয় নতুন এই নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি, লুটপাটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেন দুর্নীতিবাজ এই চিকিৎসক। এরমধ্যে মেডিকেল কলেজের বই কেনার নামে টেন্ডার ডেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা অডিটে ধরা পড়ে। ২০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় ডা. ছালামের ব্যাপক দুর্নীতি, জালিয়াতির ফাইলও তথ্য প্রমাণসহ দুদকের কাছে রয়েছে। এছাড়া ডা. আব্দুছ ছালাম অধ্যক্ষ পদে থাকাকালে কলেজের আসবাবপত্র ক্রয় নিয়েও বড় ধরনের কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছিলেন। এসব লুটপাট, অনিয়ম দুর্নীতি, জালিয়াতি ধরা পড়ায় শাস্তি হিসেবে ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ছাড়া করা হয় দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষকে। ওএসডির পর ফার্মাকোলজির অধ্যাপক হিসেবে সংযুক্ত করে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজে। গত ২ বছরে তাকে আর কোথাও অধ্যক্ষ পদে কিংবা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে পদায়ন করা হয়নি। এরইমধ্যে নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পেতে গত ২০ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ডা. ছালাম। ওই আবেদনের সঙ্গে স্থানীয় এমপির একটি ডিও লেটারও জুড়ে দেয়া হয়। সেখানে কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষের বিষোদগার করে দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ছালামকে পুনর্বহালের সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির দায়ে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া সেই অধ্যক্ষকে আবারো নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পোস্টিং করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একটি দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারি চক্রের বিশেষ স্বার্থ হাসিলে দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষকে পুনরায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। মন্ত্রীর শ্যালকের মধ্যস্থতায় এই পদায়ন হয়েছে। এর বিনিময়ে তার সঙ্গে বড় অংকের ঘুষ লেনদেনের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ওই টাকার অর্ধেক মন্ত্রীর শ্যালককে অগ্রিম দেয়া হয়। গত সপ্তাহে পদায়নের পর বাকী টাকাও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ভাগবাটোয়ারা দিয়ে ম্যানেজ করা হয়েছে কিছু স্বাচিপ নেতাকেও। আর এর সবই হয়েছে স্বাস্থ্যখাত দাপিয়ে বেড়ানো দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার এসএল ট্রেডার্সের মালিক মিঞা ছাদুল্লাহর তদবিরে। ডা. ছালামকে নোয়াখালীর অধ্যক্ষ পদে পদায়নের জন্য মন্ত্রীর শ্যালকের সঙ্গে বড় অংকের ঘুষ লেনদেনের চুক্তি করেন মিঞা ছাদুল্লাহ বিন হাসান।
মিঞা ছাদুল্লাহ’র স্বার্থ যেখানে
নানা অনিয়ম দুর্নীতি জালিয়াতি করেও দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এস এল ট্রেডার্সের মালিক দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার মিঞা ছাদুল্লাহ। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ২১ কোটি টাকার আসবাব সরবরাহে তার দুর্নীতি জালিয়াতি ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। দুর্নীতি-প্রতারণার দায়ে তার বিলও আটকে দেয়া হয়েছে। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজেও ঘটেছে একই ঘটনা। সেখানেও আসবাব সরবরাহের আড়ালে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির ধান্ধা করতে গিয়ে ছাদুল্লাহর বিল আটকা পড়েছে। ওই মেডিকেল কলেজের জন্য বরাদ্দ না থাকলেও সেখানে নানা ফন্দি ফিকির করে আসবাবপত্র সরবরাহের কার্যাদেশ নেয় মিঞা ছাদুল্লাহ। দুর্নীতিবাজ ডা. আব্দুছ ছালাম অধ্যক্ষ পদে থাকাকালেই ঘটে এই লাগামহীন দুর্নীতি। এক পর্যায়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার আসবাব সরবরাহের এই ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি, জালিয়াতির ঘটনা ধরাও পড়ে। কাগজে-কলমে মেডিকেল কলেজটিতে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার আসবাব সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবে ওই আসবাবপত্রের দাম ৩০ লাখ টাকার বেশি হবে না। অর্থাৎ এখানে ৪ কোটি টাকাই মেরে দিতে চেয়েছিলেন দুর্নীতিবাজ ওই ঠিকাদার ছাদুল্লাহ ও অধ্যক্ষ ছালাম সিন্ডিকেট। আর এই অনিয়ম ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তার বিল আটকে গেছে। এখন সেই ভুয়া বিল তুলে নিতেই দুর্নীতিবাজ চিকিৎসক ডা. ছালামকে নোয়াখালী মেডিকেলে পদায়নের জন্য তদবির চালান মিঞা ছাদুল্লাহ। অবশেষে মন্ত্রীর শ্যালককে ঘুষ দিয়ে পদায়ন করতে সফল হন তিনি।
৩২০ টাকার বই ৮৮ হাজার টাকা দরে কিনেছিলেন ডা. ছালাম
নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন ব্যাপক দুর্নীতি জালিয়াতি অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করেছিলেন ডা. আব্দুছ ছালাম। কলেজের বই কেনার আড়ালে ভুয়া বিল তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাটি ছিলো খুবই লজ্জাস্কর। জানা যায়, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের একটি পাঠ্যবইয়ের সিরিজ ‘ওয়ান স্টপ ডক’, যার একটি খ-ের নাম মেটাবলিজম অ্যান্ড নিউট্রিশন। যুক্তরাষ্ট্রের সিআরসি প্রেস প্রকাশিত ১২৮ পৃষ্ঠার এ বইটি দেশের বাজারে এক-দেড় হাজার টাকায় পাওয়া যায়। অনলাইনে কেনাকাটার ওয়েবসাইট আমাজনে দাম চার ডলার (প্রায় ৩২০ টাকা)। অথচ ডা. ছালাম নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন একই বই কিনেছিলেন ৮৮ হাজার ৫০০ টাকায়!
জানা গেছে, লুটপাট করতে পাতানো দরপত্রের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে তিনি কার্যাদেশ দিয়েছিলেন। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেশিরভাগ বইয়েই বাজারদরের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে ১৫০ গুণ বেশি দামে বই সরবরাহ করে। যেসব বই দেড় কোটি টাকায় কেনা যেত, সেসব বই কিনতে কলেজ কর্তৃপক্ষ খরচ করেছে ছয় কোটি টাকা। তিনটি সরকারি দপ্তরের প্রতিবেদনে নোয়াখালী মেডিকেলে বই কেনায় অনিয়ম এবং সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের এ ঘটনা প্রমাণিত হয়।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট বই ও সাময়িকী সরবরাহের জন্য দরপত্র ডাকেন নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ আব্দুছ ছালাম। আব্দুছ ছালামের ঘনিষ্ঠ মাহবুবুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বই সরবরাহের ব্যবসা করেন। তিনি সৌরভ পাবলিশার্স ও ডিস্ট্রিবিউটরসের মালিক। তাঁর স্ত্রী আফসানা ইসলামের রয়েছে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান-অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল ও নির্ঝরা এন্টারপ্রাইজ। মাহবুবুলের শ্যালক হাসান পারভেজ আরও দুটি প্রতিষ্ঠান-সৌরভ বুক সেন্টার ও রেনু এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। পারিবারিক এ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বই সরবরাহের দরপত্রে অংশ নেয় এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে কার্যাদেশ পায়। 
মাহবুবুলের স্ত্রীর অরবিটাল ও নির্ঝরা এবং শ্যালকের সৌরভ বুকসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুছ ছালামের ডাকা ওই দরপত্রে অংশ নেয়। অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ হওয়ার পরও দুর্নীতিবাজ  কলেজ অধ্যক্ষ নিজের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘন করে নিজেকে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রধান হিসেবে রাখেন। মূল্যায়ন কমিটি অরবিটাল ও সৌরভকে যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে, সর্বনিম্ন দরদাতা হয় অরবিটাল। ২৩ সেপ্টেম্বর ছয় কোটি টাকার বই ও সাময়িকী সরবরাহের জন্য অরবিটালকে চারটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। মাত্র চার দিনের মাথায় ২৭ সেপ্টেম্বর চারটি চালানের মাধ্যমে এসব বই সরবরাহ করে অরবিটাল।
অরবিটালের কার্যাদেশগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৩ হাজার ৭৪৫ ধরনের (আইটেম) বইয়ের দর প্রচলিত বাজারমূল্য থেকে সর্বনিম্ন দ্বিগুণ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ গুণ বেশি রাখা হয়েছে। যেমন এলসেভিয়ার প্রকাশিত মাসল বায়োপসি: অ্যা প্র্যাকটিকাল অ্যাপ্রোচ বইয়ের চতুর্থ সংস্করণের দাম দেশের বাজারে সাড়ে ১৩ হাজার টাকা হলেও অরবিটাল রেখেছে ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা। একই প্রকাশনা সংস্থার প্র্যাকটিক্যাল ইকোকার্ডিওগ্রাফি অব কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ বইয়ের দাম ২ হাজার ২০০ টাকা হলেও অরবিটাল রেখেছে ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা।
অরবিটালের সরবরাহ করা বেশির ভাগ বিদেশি বই অ্যামাজন ডট কমে পাওয়া যায়। ওয়ান স্টপ ডক সিরিজের আরেকটি বই গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সিস্টেম ভারতে ৪৬৬ রুপিতে (৫৬৫ টাকা) বিক্রি করছে অ্যামাজন। এই বইটিও অরবিটাল বিক্রি করেছে সাড়ে ৮৮ হাজার টাকায়। এ ছাড়া ১৫ হাজার টাকার বই প্রায় ৯৯ হাজার টাকায়, সাড়ে ৬ হাজার টাকার বই সাড়ে ৯২ হাজার টাকায়, ৬ হাজার টাকার বই সাড়ে ৮৫ হাজার টাকায় কিনেছে নোয়াখালী মেডিকেল। দরপত্রে সব ধরনের বই এক কপি করে কেনার কথা বলা হলেও কমপক্ষে ৩০ ধরনের বই শতাধিক কপির ওপর কিনেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
নোয়াখালী মেডিকেলে আরেক দরদাতা পরমা পাবলিশার্সের দরপত্র মূল্যায়ন করে দেখা যায়, যে বই কেনার জন্য অরবিটাল প্রায় ছয় কোটি টাকা নিয়েছে, একই সংখ্যক বইয়ের জন্য পরমার দর ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা।
সিপিটিইউ ও নিরীক্ষা কার্যালয় বলছে, পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য দরপত্রে অদ্ভুত কয়েকটি শর্ণ জুড়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি শর্ত ছিল যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরে দুই কোটি টাকার মেডিকেলের বই সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এটি পূরণ করতে না পারায় পরমাকে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করা হয়। অথচ দরপত্রে শুধু ‘বই ও সাময়িকী’ সরবরাহের জন্য ডাকা হয়েছিল, আর শর্তের জায়গায় ‘মেডিকেল বই’ কথাটি জুড়ে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলেজ কর্তৃপক্ষের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথমে সিপিটিইউয়ে আপিল করে পরমা পাবলিশার্স। ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর সিপিটিইউয়ের রিভিউ প্যানেলের রায়ে বলা হয়, নোয়াখালী মেডিকেলের পুরো দরপত্র কার্যক্রম বেআইনি। তারা এ দরপত্র বাতিল করে আবার দরপত্র ডাকার সুপারিশ করে। সিপিটিইউয়ের এই রায় মানেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এরপর পরমা পাবলিশার্স সিএজি কার্যালয়ে অভিযোগ করলে স্থানীয় ও রাজস্ব নিরীক্ষা অধিদপ্তর বিষয়টি যাচাই করে। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর দেওয়া নিরীক্ষা অধিদপ্তরের যাচাই প্রতিবেদনে নোয়াখালী মেডিকেলে বই কেনায় পুরো দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, অরবিটাল ও সৌরভ একসঙ্গে বসে যোগসাজশে বইয়ের দর নির্ধারণ করেছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি অর্থাৎ অধ্যক্ষ আব্দুছ ছালাম পক্ষপাতিত্ব করেছে এবং বইপত্র গ্রহণ কমিটি বইয়ের প্যাকেট না খুলেই প্রত্যয়ন করেছে যে, সব বই ঠিকভাবে পাওয়া গেছে। 
 নোয়াখালীতে বই কেনায় দুর্নীতি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এই কমিটি প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনেও বই কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, নোয়াখালী মেডিকেলে বই কেনায় কমপক্ষে ৬ দফায় সরকারি কেনাকাটার নিয়ম-কানুন লঙ্ঘন করেছেন অধ্যক্ষ ডা. আব্দুছ ছালাম। এরপর এই ব্যাপক দুর্নীতি লুটপাটের দায়ে তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।
কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো, সেই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষকেই আবার একই পদে পদায়ন করা হলো। এ ধরনের নজির পুরো স্বাস্থ্যখাতের জন্যই ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
( সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৮ অক্টোবর ২০১৮ প্রকাশিত)