শনিবার, ২০-অক্টোবর ২০১৮, ১১:০২ অপরাহ্ন

শেষ সময়ে সরকারের বিতর্কিত যত উদ্যোগ

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০৭:১৯ অপরাহ্ন

শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র তিন মাস। সংবিধান অনুযায়ী এই তিন মাস শেষ হওয়ার আগেই জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতার একেবারে শেষ সময়ে এসে একের পর এক বিতর্কিত উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বিভিন্ন মহলের ব্যাপক আপত্তি সত্ত্বেও ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে। নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে রাজনৈতিক দলগেুলোর বিরোধিতার মুখে ইভিএম ক্রয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অংশীজনদের দাবি পূরণ না করে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে চলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ট্রাস্টের আওতায় আনতে নতুন একটি বিল সংসদে পাস হয়েছে। কারাগারের মধ্যে আদালত বসিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল মামলার শুনানি শুরু করা হয়েছে যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাটিকে এই শেষ সময় পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। রায়ের জন্য ১০ অক্টোবর ঠিক করা হয়েছে। এই মামলায় তারেক রহমানসহ দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপি যেটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে অভিযোগ করে আসছে। ক্ষমতার একেবারে শেষ সময়ে এসে সরকারের এসব উদ্যোগ বা কর্মকা- ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মহলে নানা রহস্য আর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতোসব বিরোধিতা সত্ত্বেও তাড়াহুড়ো করে শেষ সময়ে সরকারের এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই আত্মঘাতী। এতে বিভিন্নমহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়বে।
দেখা গেছে সরকার গত কয়েকদিনে সংসদে যেসব আইন পাস করেছে বা যাতে অনুমোদন দিয়েছে তার প্রায় প্রত্যেকটিতেই জনগণের বিরোধিতা ছিলো। সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করে সরকার। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে সংকুচিত করার এই আইনটি নিয়ে সাংবাদিক মহলের তীব্র বিরোধিতা ছিলো। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে সাংবাদিক নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। খসড়া প্রণয়ন থেকেই সম্পাদক পরিষদ এর কড়া বিরোধিতা করে আসছে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় সম্পাদকরা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে নিবর্তনমূলক এই আইনের বিরোধিতা করেছেন। 
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে যে কারণে উদ্বেগ
সংসদের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি, উদ্বেগ ও মতামত উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে। এই আইনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল হবে। তবে এই আইনটিতেই কুখ্যাত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো চারটি ধারায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশকে পরোয়ানা এবং কারও অনুমোদন ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইনে ঢোকানো হয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের সমালোচিত আইন ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’। আইনের ১৪টি ধারার অপরাধ হবে অজামিনযোগ্য। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক এই আইন লঙ্ঘন হয়, এমন অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে এই আইনে বিচার করা যাবে।
এই আইনের অধীনে সংগঠিত অপরাধ বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে। অভিযোগ গঠনের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। আইনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিধানাবলি কার্যকর থাকবে।
আইনে ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ; মানহানিকর তথ্য প্রকাশ; ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত; আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে অপরাধে জেল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। নিবর্তনমূলক এই আইন সংযোজনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, অংশীজনদের আপত্তি ও বিতর্কিত ধারাগুলো অপরিবর্তিত রেখে এই আইন পাস খুবই উদ্বেগজনক। একদিকে বিলের ৮, ২৮, ২৯ ও ৩১ ধারার বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগ ও মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছে। যা তাদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে বিতর্কিত ৩২ ধারায় ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-১৯২৩ অনুসরণের সুপারিশ করার দৃষ্টান্ত অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাব্যঞ্জক। 
তারা বলছেন, প্রস্তাবিত আইনের ৩২ ধারার অপপ্রয়োগের ফলে তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী দুর্নীতি মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত আইনি অধিকার ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হবে। ফলে এই ধরনের অপরাধের আরও বিস্তার ঘটবে। এ ছাড়াও অনুসন্ধানীমূলক সাংবাদিকতা ও যে কোনো ধরনের গবেষণামূলক কর্মকা- পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। এটি আইনে পরিণত হলে তা সংবিধানের মূল চেতনা, বিশেষ করে মুক্ত চিন্তা, বাক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার নামে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। বিশিষ্টজনরা মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি কল্যাণ, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিশ্চিতের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে প্রস্তাবিত আইনটি তাতে বাধা সৃষ্টি করবে। 
সংসদে বিরোধী দলের এমপি শামীম হায়দার পাটোয়ারি এর বিরোধিতা করে বলেছেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতামত ও চিন্তার স্বাধীনতার যে কথা বলা হয়েছে, এই আইন হবে তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হলেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অনেক জায়গায় ৫৭ ধারার ভীতি আরও বেশিভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তিনি বলেন, সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও আইনে তা প্রতিফলিত হয়নি। এই আইন গণমাধ্যমকে ক্ষুব্ধ করবে। নির্বাচনের আগে সমাজের এ রকম একটি বিশাল প্রগতিশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করা আত্মঘাতী সিদ্ধোন্তেরই শামিল।
গত ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। তখন থেকে এই আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানিয়ে আসছে। সম্পাদক পরিষদ এই আইনের ৮টি (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২ ও ৪৩) ধারা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিল। সম্পাদক পরিষদ মনে করে, এসব ধারা বাক-স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা হতে পারে। এ ছাড়া ১০টি পশ্চিমা দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরা এই আইনের ৪টি ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ৯টি ধারা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিল।
আপত্তির মুখে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। এই প্রেক্ষাপটে গত ৯ এপ্রিল বিলটি পরীক্ষার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠায় সংসদ। সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বিলটি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। যে ধারাগুলো নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ছিল, তার কয়েকটিতে কিছু জায়গায় ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা, সাজার মেয়াদ কমানো এবং শব্দ ও ভাষাগত কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব বিধান নিয়ে আশঙ্কা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিল, সেগুলোর প্রায় সবই রেখে দেওয়া হয়েছে। 
আইনমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন যে সম্পাদক ও সাংবাদিক প্রতিনিধিদের মতামত তাঁরা বিবেচনায় নেবেন। বোঝাই যাচ্ছে, ওগুলো ছিল কথার কথা। 
বিশ্লেষকরা মনে করেন- সরকার চায় না, এমন সব তথ্য বা মতামত প্রকাশ বন্ধ করাই যে এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ের নাগরিক অসন্তোষ এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক ক্ষোভের মধ্যে সরকারবিরোধিতার যে অভিন্ন উপাদান, তাতে সরকার উদ্বিগ্ন। সরকারের সেই অস্থিরতারই আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে প্রশাসনের হাতে আরও নিবর্তনমূলক ক্ষমতাগুলোকে কেন্দ্রীভূত করা। ডিজিটাল আইন তৈরিতে তাড়াহুড়ার কারণ সম্ভবত সেটাই। এই আইনের আরেকটি বিপজ্জনক উপাদান হচ্ছে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা। ৫৭ ধারার ব্যাপক অপপ্রয়োগের কারণে দাবি উঠেছিল যে উপযুক্ত আদালতের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ না রাখা। বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সেটাই রীতি। কিন্তু সে পরামর্শ উপেক্ষিত হয়েছে। কথিত মানহানিকর তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত ধারায় সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগকে আমলে নেওয়া হয়নি। 
বিশ্লেষকদের অভিযোগ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ফলে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে এবং ক্ষমতাসীনদের ভাষ্যের বাইরে অন্য কিছু আর প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সাংবাদিকতা শেষ পর্যন্ত সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পুনর্লিখন এবং সম্পাদনাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে। রাষ্ট্র, সমাজ, শিল্প-সাহিত্য, ধর্মীয় ভাবনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাত্রা ইত্যাদি সবকিছুর ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষীয় ভাষ্য কিংবা প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের বিবরণও ক্ষমতাসীনদের বিবেচনায় ক্ষতিকর গণ্য হলে তা-ও প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।  
প্রস্তাবিত আইনের আরেকটি বিতর্কিত বিধান ৩২ ধারায় অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকে অন্তর্ভুক্ত করায় সরকারের উদ্দেশ্য যে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, তার প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার তথ্যসংবলিত সরকারি নথির কপি রাখার দায়ে দেশটির আদালত রয়টার্সের দুজন সাংবাদিককে সাত বছর করে জেল দিয়েছে। 
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খড়গ যে শুধু সাংবাদিকতার ওপর নামছে তা নয়, এটি পুরো সমাজেরই মুক্তচিন্তা, স্বাধীন চিন্তা ও মতপ্রকাশের পথে বাধা তৈরি করবে। তবে সমাজের অন্যান্য অংশের চেয়ে সংবাদমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জটা একটু বেশিই। সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিকতা পেশা এবং গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। এটা গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের জন্য অশুভ সংকেত।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজের মতে, নতুন আইনের ৩২ ধারার ভেতরে এমন ব্যবস্থা রেখে দেওয়া হয়েছে, যা কেবল শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিরুদ্ধেই নয়, কার্যত দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পথকেই প্রশস্ত করেছে। 
এই আইনের ভার কেবল যে সাংবাদিকদেরই বইতে হবে, তা নয়। বাংলাদেশ বিষয়ে যাঁরা গবেষণা করেন, বিশেষত যাঁরা ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বসে স্বাধীনভাবে গবেষণা করতে চান, তাঁদের জন্য এই আইনে এমন অনেক কিছুই আছে, যা তাঁদের উদ্বিগ্ন করার কথা। 
এটুকু যদিও বলা হচ্ছে যে এই আইনের বিভিন্ন বিধান ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে’। কিন্তু এই বক্তব্য যথেষ্ট নয়, সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা দরকার কী কী বিধান উদ্বেগের জন্ম দেয়। উদাহরণ হিসেবে আইনে উল্লিখিত ‘রাষ্ট্রের সুনাম’ ‘ভাবমূর্তি’, ‘ধর্মীয় অনুভূতি’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’এর প্রসঙ্গ স্মরণ করতে চাই। এসব শব্দ সাধারণ আলোচনায় যতটা সহজে ব্যবহারযোগ্য, আইনের মধ্যে প্রবেশ করলে তা আর সহজ বিষয় থাকে না। কেননা সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হওয়ার দরকার হয়ে পড়ে। এসব ধারণার কি অভিন্ন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো সংজ্ঞা নির্ধারণের উপায় আছে?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সব নাগরিকের বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের সাংবিধানিক অঙ্গীকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাসের মধ্য দিয়ে একটি সংবিধান পরিপন্থী কাজ হলো। সংবিধানে যে মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা, যা এই আইনে ক্ষুণœ হবে। যারা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন, সরকারি প্রশাসনের ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করেন, শুধু তাদের মধ্যেই নয়, নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলো।’
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিরাপত্তার নামে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলো। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের যেটুকু পরিবেশ ছিল তা এই আইনে ব্যাপকভাবে খর্ব হবে। এটা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। স্বল্প মেয়াদে সুবিধা অর্জনের জন্য সরকার যদিও এটা করেছে, কিন্তু আমি মনে করি এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা হয়তো সরকার এখন অনুধাবন করতে পারছে না। কিন্তু ভবিষ্যতে এটা তাদের জন্যও আত্মঘাতী হবে। 
৩৮২৫ কোটি টাকার বিতর্কিত ইভিএম প্রকল্প
বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করলেও নির্বাচনের মাত্র তিন মাস আগে বহুল আলোচিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার প্রকল্প পাস করেছে সরকার। ১৮ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় ৩৮২৫ কোটি টাকার প্রকল্পটি পাস করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় মোট দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে। ভোটারদের প্রশিক্ষিত না করে নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে  ইভিএম কেনার এই বিশাল প্রকল্প  নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। তবুও সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে সম্প্রতি আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করেছে ইসি। এই প্রস্তাব এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। কিন্তু এর আগেই দেড়লাখ ইভিএম কিনতে ৩৮২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের আগেই ইভিএম আমদানিতে ৭৯৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকার এলসিও খোলা হয়েছে। অথচ নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি নির্বাচন কমিশন। ইসি এত দিন বলে এসেছে, সব দল না চাইলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি বা কারিগরি সামর্থ্যও এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। 
অক্টোবর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হবে। এই সময়ে ইসি কেন বা কার স্বার্থে ইভিএম নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে ইভিএম চাপিয়ে দেয়া যাবে না। তারপরও ইভিএম কিনতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন এবং আরপিও সংশোধনে ইসির তোড়জোড়ে রহস্য ঘনীভূত করেছে। বড় পরিসরে ব্যবহার করার মতো সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল তৈরি না করেই দেড় লাখ ইভিএম কেনা এবং আইন সংশোধনের উদ্যোগ শুধুমাত্র লুটপাটের জন্য কি না সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ইভিএম কেনা ও অল্প সময়ের মধ্যে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে খোদ ইসিতেই প্রশ্ন আছে। নির্বাচন কমিশনারদের কেউ কেউ মনে করেন, এই মুহূর্তে ইভিএমের আলোচনা সামনে আনা বা বিপুলসংখ্যক ইভিএম ক্রয় করা অনাবশ্যক। এতে বিতর্ক বাড়বে। কারণ ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক দ্বিমত যেমন আছে, তেমনি ভোটারদের অনেকের অনীহাও আছে এবং এটা ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল নেই।
গত ৩০ আগস্ট ইভিএম ব্যবহারের বিধান রেখে আরপিও সংশোধনের বিষয়ে ইসির বৈঠকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বৈঠক বর্জন করেন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার। 
মাহবুব তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি তিনটি কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। প্রথম বিষয় হচ্ছে অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইভিএম ব্যবহারের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয়ত, ইভিএম ব্যবহারের জন্য কমিশন যাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তা অপর্যাপ্ত। জাতীয় নির্বাচনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে যে সময়ের দরকার হবে তা আমাদের হাতে নেই। আর তৃতীয়ত, ইভিএম ব্যবহারে ভোটারদের মধ্যে অনীহা রয়েছে। তাদের মধ্যে অভ্যাস গড়ে ওঠেনি। এজন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করাটা ঠিক হবে না।’
ইসির রোডম্যাপে ইভিএমের বিষয়টি নেই উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমরা যে কর্মপরিকল্পনা দিয়েছিলাম, তার কোথাও ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে কিছু নেই। এখন হঠাৎ করে নির্বাচনের আগে আগে কেন ইভিএম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে গেল?’ জার্মানিতে ইভিএমকে অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে তিনি পত্রিকার উদ্বৃতি দিয়ে দাবি করেন। ইভিএম ব্যবহারে সংবিধানে কোনও সংশোধনী আনার প্রয়োজন পড়বে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দেশে ইভিএমের প্রচলন করেছিল এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। তখনকার নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময় বাকি। এর মধ্যে এতগুলো ইভিএম কেনা, আইন সংশোধনের উদ্যোগে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। 
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার জনমতকে উপেক্ষা করে জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে ভোট জালিয়াতি করতে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের অপকৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন
বাস-মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন প্রক্রিয়া সংস্কার ও ভাড়া নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো উপেক্ষা করে ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন পাস করা হয়েছে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। বিশেষজ্ঞ ও সড়কে শৃঙ্খলার দাবিতে সোচ্চার সংগঠনগুলো বলছে, প্রস্তাবিত আইনে যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব উপেক্ষিতই থেকে গেল। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা বলছেন, এই আইনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- দাবি করা হলেও ৫ বছর কারদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। পরিবহন কমিটিতে মালিক শ্রমিকদের প্রাধান্য থাকলেও যাত্রী প্রতিনিধি রাখা হয়নি। 
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, দেশের সড়ক যোগাযোগ সেক্টরের প্রধানতম স্টেক হোল্ডার যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিত্ব না রেখে পাস করা এই সড়ক পরিবহন আইনে পরিবহন সেক্টরে সরকারের অসহায়ত্ব আরো বাড়লো। এই আইন শুধুমাত্র বেপরোয়া পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থই সংরক্ষণ করবে। দেশের ১৬ কোটি যাত্রীসাধারণ বঞ্চিত হবে।
এই আইন নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে সড়ক নিরাপদ ও শৃঙ্খলা আনার জন্য অংশীজনরা আরো কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছিলো। সেগুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির যে দাবি করেছিলো, তাও বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আইনটি দিয়ে সড়ক নিরাপত্তার চাহিদা পূরণ হবে কি না সে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। আইনে যথাযথ যাচাই বাছাই না করে ড্রাইভিং লাইসেন্স না দিলে বিআরটিএকে দায়বদ্ধ করার ব্যবস্থা নেই। সড়ক নিরাপত্তায় পুলিশের দায়িত্ব ব্যাপক। তাদেরও দায়বদ্ধ করার বিষয়টি উপেক্ষিত রয়েছে। আইনে সড়ক দুর্ঘটনায় তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনাও রাখা হয়নি।
কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্ট আইন নিয়ে বিতর্ক
প্রকল্পের মাধ্যমে চলা দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ট্রাস্টের আওতায় আনতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর নতুন একটি বিল জাতীয় সংসদে তোলা হয়। এখান থেকে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। সময় দেয়া হয় এক দিন। কিন্তু, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদীয় কমিটি বিলটি কোনরকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে ওইদিনই এক ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর আইনটি সংসদে পাস করা হয়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, এত জরুরি কেন? পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য মাত্র একদিন সময় কেন দিতে হলো? সংসদীয় কমিটিও-বা কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কেন এক ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করলো? যতোটা জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দীর্ঘদিন ধরেই এ আইনটি নিয়ে কাজ করছিল। এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রেখে সরকারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টেনে এনে কেন এখন তড়িঘড়ি আইনটি পাস করার ব্যবস্থা করলো মন্ত্রণালয়?
এই আইন অনুযায়ী কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের আওতায় চলে আসবে। ট্রাস্টে সরকারি থোক বরাদ্দ থাকবে, অনুদান থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তিবিশেষের দান বা অনুদানও নেয়া হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পরিচালনার জন্য বেতনভাতা, ওষুধপত্র, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র সরবরাহ, মেরামত ও রক্ষণাক্ষেণ ইত্যাদি কাজে  ট্রাস্টের তহবিলে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ না থাকলে সরকার প্রতি বছর রাজস্ব অথবা উন্নয়ন বাজেট থেকে ঘাটতি পূরণ করবে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন সরকারের একেবারে শেষ সময়ে শেষে কার স্বার্থে, কি উদ্দেশ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে চলা কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ট্রাস্টের আওতায় আনা হচ্ছে?
সারা দেশে ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। বর্তমানে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেই পর্যাপ্ত ডাক্তার, যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারকে বেগ পেতে হয়, সেখানে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সরকার কতটা মান বজায় রাখতে পারবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুই মামলার রায়ের জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে। এই রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। চলছে বিতর্কও। মামলার বিচার চলাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে খালেদা জিয়া এবং তাঁর ছেলে তারেক রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। 
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন গ্রেনেড হামলার বিচারাধীন মামলা নিয়ে জিয়া পরিবারকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে তারা মামলার মূল আসামিদের আড়াল করতে চাচ্ছে। খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘প্রথমে তদন্তের পর এই মামলায় চার্জশিট আদালতে জমা দেয়া হয়। এরপর বর্তমান সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আবার অধিকতর তদন্তের নামে তারেক রহমানকে এ মামলায় আসামি করে। এ থেকে বোঝা যায়, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। বিএনপির অভিযোগ, দলটিকে নেতৃত্ব শূন্য করতেই তারেক রহমানকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর তাই নির্বাচনের একেবারে আগ মুহূর্তে এই মামলার রায় ঘোষণার উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
( সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ প্রকাশিত)