বৃহস্পতিবার, ২০-সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

যে কারণে সুপ্রিম কোর্টে আ’লীগের ভরাডুবি

Shershanews24.com

প্রকাশ : ২৪ মার্চ, ২০১৮ ০৫:৩২ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিবেদক, শীর্ষনিউজ: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) ২০১৮-১৯ সেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবারে জেতার জন্য বেশ আঁটঘাট বেঁধে নেমেছিল। কিন্তু অবশেষে তাদের সব চেষ্টাই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বলা যায়, অনেকটা উল্টো ভরাডুবি হয়েছে। কিন্তু কেন- এ নিয়ে ব্যাপকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গন ছাড়িয়ে এ বিচার-বিশ্লেষণ ও আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গন, এমনকি সাধারণ সচেতন মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
 বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের কাছে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোট সমর্থিত সাদা প্যানেলের শোচনীয় হারের নেপথ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ইস্যু এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার ‘বাধ্যতামূলক’ প্রস্থান, নিম্ন আদালতের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যুকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা ভালোভাবে নেননি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নির্বাচনে।
তবে বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যুটি সবচে’ বেশি প্রভাব পড়েছে। যেভাবে আপিল বিভাগে জামিন স্থগিত হলো সেটিকে কোনভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে পারছেন না দলনিরপেক্ষ আইনজীবীরা। তারা মনে করছেন, এতে পুরো বিচারাঙ্গনের ভাবমুর্তি বিধ্বস্ত হয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের নিজেদের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১০টি পদে বিজয়ী হয় বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। অন্য দিকে আওয়ামী লীগ তথা সরকার সমর্থিত  সাদা প্যানেল পায় ৪টি পদ।
সভাপতি পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে হারান বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল থেকে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সম্পাদক পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের অ্যাডভোকেট এস কে মো: মোরসেদকে হারান  বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
নির্বাচনে এ বিজয়কে সরকারের বিরুদ্ধে জনরায়ের প্রতিফলন বলে ইতোমধ্যেই আখ্যায়িত করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলেছেন, বিচারাঙ্গণকে কুক্ষিগত করাসহ সরকারের বিভিন্ন ধরনের অন্যায় ও অত্যাচারের প্রতিফলন ঘটেছে আইনজীবীদের নির্বাচনে। আইনজীবীরা অনেক সচেতন। তারা ভোটের মাধ্যমে বিরোধী দল ও মতকে দমন, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের অভাব, পুলিশের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডসহ সব কিছু নিয়ে সরকারের বাড়াবাড়ির প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট বারকে বিএনপিপন্থীদের নেতৃত্ব থেকে পুনরুদ্ধার করে নিজেদের কব্জায় নিতে এবার সব ধরনের চেষ্টাই  করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। এ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের আইনজীবী নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেন। আইনজীবীদের কোন্দল মিটিয়ে যেকোনো মূল্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেলের বিজয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেয়া হয় দলের হাই কমান্ড থেকে। এমন প্রেক্ষাপটে বার পুনরুদ্ধার করতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামেন। প্যানলের বিজয় নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবী নেতারা। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল তাদের পক্ষে যায়নি। নানা চাপে থেকেও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের এ বিপুল বিজয়ে চরম হতাশ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং বিএনপির চরম সঙ্কটেও এ ধরনের বিজয় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এবং প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূনের হার কোনোভাবেই মানতে পারছেন না তারা। তাই এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের দলের মধ্যে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শীর্ষনিউজ/এমএইচ