মঙ্গলবার, ১৩-নভেম্বর ২০১৮, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে স্ত্রীকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ এসআই’র বিরুদ্ধে 

স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে স্ত্রীকে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ এসআই’র বিরুদ্ধে 

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৫৬ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই)র বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর উক্ত গৃহবধূ অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। ওই গৃহবধূ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এসআই এয়ার হোসেন সোহেল বর্তমানে কর্মরত আছেন নগরীর বায়েজীদ থানায়।

অভিযোগ উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তা গৃহবধূর স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে চালান ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে গৃহবধূকে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে ওই গৃহবধূ।

মেট্রোপলিটন হাসপাতালের রেজিস্টার ডাক্তার মোহাম্মদ নূরুন নবী জানান, গত ২৭ অক্টোবর তারিখ চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বিষ খাওয়া এই রোগী গত ৩০ অক্টোবর আমাদের মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশংকামুক্ত অবস্থায় আছেন।
ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূর স্বামী জানান, পুলিশের পোশাক কারখানায় চাকরি ও শহরে একটি দোকান নিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। যা বিশ্বাস করে গত ১৫ আগষ্ট স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসি আমি। এরপর গত ১৮ আগষ্ট আমার ঘরে ইয়াবা নিয়ে এসে আমাকে ইয়াবা দিয়ে চালান ও মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে এসআই এয়ার হোসেন। এ নিয়ে ডিসি উত্তর বরাবর একটি অভিযোগও করেছি আমি।

ধর্ষণের শিকার এ গৃহবধূ জানান, আমাকে মেরে ফেলার হুমকি ও আমার স্বামীকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে সারারাত আটকে রেখে আমাকে ধর্ষণ করে পুলিশের এসআই এয়ার হোসেন সোহেল। আমি এর বিচার চাই। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ সদস্য এসআই এয়ার হোসেনের জানান, সরলতার সুযোগ নিয়ে এই দম্পত্তি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। আল্লাহর কসম আমি এরকম কিছুই করিনি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার না করলেও এঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে তার বেশ কিছু ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক কল রেকর্ড ও তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এমনকি ধর্ষণের শিকার হওয়া গৃহবধূকে মেট্রোপলিটন হসপিটালে ভর্তি ফরমেও স্বাক্ষর ছিল এই পুলিশ কর্মকর্তার, যোগাযোগের জায়গায়ও ছিল তার সরকারি কাজে ব্যবহার করা মোবাইল নম্বরটি। যার একটি কপি সংবাদ মাধ্যমের রয়েছে।

এবিষয়ে নগরীর উত্তর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমাদের কাছে এমন একটি অভিযোগ এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি অভিযুক্ত এই পুলিশ সদস্য এমন জঘন্য কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শীর্ষনিউজ/প্রতিনিধি/এসএসআই