বুধবার, ২৩-মে ২০১৮, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের কাঁটাতারের ‘মৃত্যুফাঁদ’

বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান কেএসআরএমের কাঁটাতারের ‘মৃত্যুফাঁদ’

sheershanews24.com

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:৪৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, চট্টগ্রাম : কৃষি জমি ইজারা নিয়ে কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মরণফাঁদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে বিতর্কিত রড নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান- কেএসআরএমের বিরুদ্ধে। সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে রেলের জায়গায় বিদ্যুতায়িত এই বেড়া দেওয়া হয়েছে।

যদিও রেলওয়ের ইজারা বিধি অনুযায়ী, রেলের জমিতে স্থায়ী কাঠামো কিংবা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিষিদ্ধ।

কিন্তু লঙ্ঘন করায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সূত্রমতে, রেলওয়েবিধি অনুযায়ী, রেলওয়ের অব্যবহৃত জমি কৃষি, বাণিজ্যিক ও মৎস্য চাষের জন্য একসনা ইজারা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের পাশে রেলওয়ের কাছ থেকে একসনা ইজারা নেয়া জমিতে চলাচলের পথ বন্ধ করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কবির স্টিল রি-রোলিং মিল্স (কেএসআরএম)।

অভিযোগ রয়েছে, কেএসআরএম রেলের জমি লিজের মাধ্যমে অবৈধ দখলের পাশাপাশি  পিএইচপি শিল্প গ্রুপের পারিবারিক জমিও দখল করে ওই বেড়ার ভেতরে নিয়ে আসে।

পিএইচপি গ্রুপের অভিযোগ, গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তত তিনশ দুর্বৃত্ত ওই জমি দখলের সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সেই কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে কেএসআরএম মৃত্যুফাঁদ সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়।

পিএইচপি ফ্যামিলির মহাব্যবস্থাপক (এস্টেট) আমির হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমাদের জায়গা দখল করে দেয়া কাঁটাতারের বেড়ায় কেএসআরএম বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। এতে পুরো এলাকাটি একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।’

অবশ্য কেএসআরএমের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ মেহরুল করিম দাবি করেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। পিএইচপির সাথে বিরোধের বিষয়টি মালিক পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।’

কাঁটাতারের বেড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রেলের জায়গা ইজারা নিয়ে সেই জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। ইজারার শর্ত অনুযায়ী চলাচলের জায়গায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। সেখানে বিদ্যুতের লাইন দিয়ে মরণফাঁদ তৈরি করা বড় অপরাধ।

রেলওয়ে সূত্রমতে, রেলওয়ের জমি ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮টি শর্ত দেওয়া হয়। এসব শর্তে বলা থাকে, সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে এসব জমির ইজারা দেওয়া হয়। সেখানে চাষাবাদ ছাড়া, রেলওয়ের অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বাড়ি কিংবা অন্য কোনও ধরনের অবকাঠামো কোনভাবেই নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ এসব নিয়মের কোনও তোয়াক্কা করছে না।

শীর্ষনিউজ/ব্যুরো/এইচএস