শুক্রবার, ১৬-নভেম্বর ২০১৮, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
  • প্রশাসন
  • »
  • সুন্দরবনে ফের দস্যুতার চেষ্টা করলে নিশ্চিহ্ন করে দেব: বেনজীর

সুন্দরবনে ফের দস্যুতার চেষ্টা করলে নিশ্চিহ্ন করে দেব: বেনজীর

Shershanews24.com

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: দুঃস্বপ্নেও যেন অরাজকতা করতে কেউ সুন্দরবনে ঢুকতে না পারে সে জন্য চারটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। যদি আবারও কেউ সুন্দরবনে দস্যুতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার খুলনার বাগেরহাট জেলায় সুন্দরবনের বন ও জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে এমন ঘোষণা দেন র‌্যাব মহাপরিচালক।
বেনজীর আহমেদ বলেন, 'উপকূল সন্নিহিত যে লক্ষ লক্ষ মানুষ বসবাস করে, যারা সুন্দরবনের উপর জীবিকা নির্বাহ করে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সুন্দরবনের ৬টি জেলার মানুষের জন্য আজকে একটি স্মরণীয় দিন। গত ৪০ বছরের দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবনে যে অভিশাপ ছিল তা থেকে মুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আজকের এই দিনে ঘোষণা দিতে চাই, দুঃস্বপ্নেও যেন অরাজকতা করতে কেউ সুন্দরবনে ঢুকতে না পারে আমরা সে ব্যবস্থা করবো। চারটি পয়েন্টে চারটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করবো, যাতে করে কেউ এই সাহস না করতে পারে।'
র‌্যাব মহাপরিচালক এ সময় আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পেছনে থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, 'একসময় এদের পেছনে থেকে ৪০ টাকার চাল ২০০ টাকায়, ৩০০ টাকার গুলি ২০০০ টাকায় যারা বিক্রি করেছেন, যারা তাদের কাছ থেকে কম পয়সায় মাছ কিনেছেন, তারা যদি আবারও সুন্দরবনে দস্যুতা সৃষ্টির চেষ্টা করে, সবাইকে নিশ্চিহ্ন করে দেব।'
বেনজীর আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, কাউকে কোনো রকম ছাড় দেয়া হবে না। আমরা এটা হতে দেব না। এই চ্যালেঞ্জটা কী আমরা জানি, আমরা সুন্দরবনের পরিবেশ সুন্দর রাখার জন্য যা যা করার তাই করবো।'
যখনই দস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছে তখনই র‌্যাব তাদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করেছে বলে জানান মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে এই কাজটিতে হাত দেই তখন থেকে আমরা যে কাজটি করেছি, তা থেকে শুধুমাত্র আমাদের দায়দায়িত্ব আত্মসমর্পণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমরা তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টির দিকেও লক্ষ্য রেখেছি। শুরুতেই মাস্টার বাহিনী যখন আত্মসমর্পণ করে, তখন আমরা আমাদের নিজস্ব তহবিল থেকে তাদের সহায়তা করেছি। মোবাইল ফোন কিনে দিয়েছি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, যাতে করে এই দস্যুদের সঙ্গেই আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে পারি এবং তারা সমাজে যেখানে ফিরে যাচ্ছে, সেখানে যেন নিরাপদ থাকতে পারে এবং আর্থিক খাতে তারা যেন নিরাপত্তাহীনতা বোধ না করে।'
এ সময় খুলনা জেলার সকল সংসদ সদস্য, জেলা প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে বেনজীর আহমেদ বলেন, 'আপনারা লক্ষ্য রাখবেন, শত শত বনদস্যু আত্মসমর্পণ করে প্রধানমন্ত্রীর মমতায় আর্থিকভাবে সহায়তা পাচ্ছে। তারা পুনর্বাসিত হয়েছে, এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে, তাদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'এই লোকগুলো তাদের গ্রামে ফিরে গেলে কোনো প্রকার অত্যাচারের শিকার যেন না হয়। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সকল রকম সাহায্য সহযোগিতা আপনারা করবেন।'
র‌্যাব মহাপরিচালক এ সময় বনদস্যুদের বিরুদ্ধে যে সকল মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও ডিভিশনাল কমিশনারকে।
তিনি বলেন, 'সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এসব দস্যুদের কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন। এরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে তাদের এ সকল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করতে আপনারা সহায়তা করবেন।'
শীর্ষনিউজ/এম